গোয়িন্দা, শাকতি কাপুর, চাঙ্কি পাণ্ডে এবং বিজেপি সংসদ সদস্য মানোজ তিবারিকে ঘোশালাবাদে যুক্ত একটি বিনিয়োগ জালিয়াতির প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (FIR) জামশেদপুরের আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এই FIR-এ গাজিয়াবাদ ভিত্তিক Maxizone Touch Private Limited কোম্পানির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
FIRটি স্থানীয় আদালতের আদেশে রেজিস্টার করা হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা আদালতে অভিযোগ করে যে তারা কোম্পানির প্রতিশ্রুত উচ্চ রিটার্নে ধোঁকা খেয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইপিসি’র বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী মামলাটি গৃহীত হয়েছে।
একজন বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন যে তিনি Maxizone Touch-এ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে মাসিক ১৫ শতাংশ সুদ পাওয়ার আশায় ছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে না সুদ না মূলধন ফেরত পাওয়ায় তিনি আদালতে আবেদন করেন, যার ফলে FIR দাখিলের পথ খুলে যায়।
অভিযোগ অনুসারে, উল্লিখিত চারজন শিল্পী কোম্পানির বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের পরিচিতি ও সমর্থন ব্যবহার করে Maxizone Touch সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে FIR-এ ধোখা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং আর্থিক জালিয়াতির ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী শোনার প্রক্রিয়া আদালতে চলবে।
আগে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ জামশেদপুরের পুলিশ Maxizone Touch-র পরিচালক চন্দার ভূষণ সিংহ এবং তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সিংহকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের গ্রেফতার বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে করা হয়েছিল, যেখানে কোম্পানির কার্যক্রমের অবৈধতা উন্মোচিত হয়।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে কোম্পানি একটি গঠনমূলক মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (MLM) স্কিম চালাচ্ছিল এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অনুমোদনহীন জমা সংগ্রহ করছিল। এই ধরনের স্কিমে অংশগ্রহণকারীকে উচ্চ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহে উৎসাহিত করা হয়।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ও কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিনিয়োগ জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। তদন্তে জানা যায় যে সিংহ দম্পতি প্রায় তিন বছর গায়েব ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়।
বর্তমানে FIR-এ নামকরণকৃত অভিনেতা ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। আদালতে তাদের উপস্থিতি ও প্রমাণ উপস্থাপনের সময়সূচি নির্ধারিত হবে, এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নির্ধারণের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই মামলায় শিল্পী ও রাজনীতিবিদদের জড়িত থাকা জনসাধারণের দৃষ্টিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি প্রমাণে তাদের সরাসরি ভূমিকা প্রমাণিত হয়, তবে আইনি শাস্তি ও সামাজিক দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হবে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। উচ্চ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত লাভের কথা বলা কোনো স্কিমে অংশ নেওয়ার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং আইনগত পরামর্শ নেওয়া উচিত।



