যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত নতুন নথি প্রকাশের পর, বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নথিগুলোতে যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম উল্লেখ থাকায়, তিনি শ্রম দল থেকে তার সদস্যপদ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ম্যান্ডেলসন জানিয়েছেন, তিনি আর দলকে কোনোভাবে অস্বস্তিতে ফেলতে চান না এবং এই পদক্ষেপটি তার শেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নতুন এপস্টেইন ফাইলগুলোতে ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ম্যান্ডেলসনকে তিনটি কিস্তিতে মোট ৭৫,০০০ ডলার (প্রায় ৫৫,০০০ পাউন্ড) প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, শ্রম দলের অভ্যন্তরে এবং মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
ম্যান্ডেলসন, যিনি একসময় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী এবং পরে শ্রম দলের মহাসচিবের পদে ছিলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তার ব্রিটিশ দূতাবাসের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে তার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে পদত্যাগের দাবি উঠে আসে। এখন পুনরায় উন্মোচিত নথি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে আবার ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
লর্ড ম্যান্ডেলসন শ্রম দলের মহাসচিবকে লিখিত চিঠিতে উল্লেখ করেন, এপস্টেইনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ক্ষোভের মধ্যে নিজেকে আবারও যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দুঃখিত। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে অনুতপ্ত করেছে এবং তিনি দলকে আর কোনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চান না। তাই তিনি স্বেচ্ছায় সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ম্যান্ডেলসন দাবি করেন, দুই দশক আগে এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি এবং এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, তার কাছে এ বিষয়ে কোনো নথি বা স্মৃতি নেই এবং তিনি এই বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যদি কোনো প্রমাণ থাকে, তা অবশ্যই প্রকাশ পেতে হবে।
শ্রম দল এই ঘটনার পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়। ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগের ফলে দলটি আরেকটি উচ্চপদস্থ সদস্যকে হারাবে, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠন ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির নতুন দিকগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে অতিরিক্ত সতর্কতা বাড়াতে পারে। শ্রম দলের নেতৃত্বকে এখন এই ধরনের অভিযোগের মোকাবিলায় স্বচ্ছতা ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে হবে।
পরবর্তী সময়ে শ্রম দল সম্ভবত ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা, এবং এপস্টেইন ফাইলের অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংযোগের তদন্ত কীভাবে এগোবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। এই ঘটনাটি পার্টির অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা এবং জনসাধারণের বিশ্বাসের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



