ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের বাজেটের অংশ হিসেবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনকে ব্যাপকভাবে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসীরা ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবে। এই পরিবর্তনগুলো দেশের অভিবাসন নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সহজতর করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছে।
আইনের মূল পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম হল সমস্ত আবেদন তথ্যকে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা, যা পূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াত এবং প্রক্রিয়ায় বছরব্যাপী সময়সীমা বাড়িয়ে দিত। এখন এনপিআর (ন্যাশনাল পার্সোনাল রেজিস্টার) ডেটা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় যাচাই শুরু হবে, ফলে আবেদনকারীর অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
দীর্ঘমেয়াদী বৈধ বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদনকারী ব্যক্তিদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেটা বিশ্লেষণ করা হবে। এই পদ্ধতি অনাবশ্যক ফাইল পুনরায় পর্যালোচনার সম্ভাবনা হ্রাস করে, ফলে প্রক্রিয়া দ্রুততর ও সুনির্দিষ্ট হবে।
বৈধভাবে ইতালিতে দীর্ঘ সময় বসবাসকারী এবং নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারী অভিবাসীদের জন্য আরেকটি সুবিধা হল, বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব ঘোষণার সময়সীমা এক বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই পরিবর্তনটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং নির্দিষ্ট ঘোষণার জন্য ২৫০ ইউরোর ফি মওকুফ করা হয়েছে।
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে, ইতালির ‘ইতালিয়া ডিজিটাল ২০২৬’ প্রকল্পের অধীনে নতুন সিস্টেমটি আগামী জুন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সক্রিয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সক্রিয়করণের পর, আবেদনকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে SPID বা CIE (ইলেকট্রনিক পরিচয়পত্র) ব্যবহার করে আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। পূর্বে শুধুমাত্র পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য উপলব্ধ এই সেবা এখন সব নাগরিকত্ব আবেদনকারীর জন্য খোলা হবে।
স্থানীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই পরিবর্তনকে ইতালিতে নতুনভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা বা সিজনাল ভিসা থেকে স্থায়ী অবস্থানে রূপান্তর করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, দ্রুত নাগরিকত্ব প্রাপ্তি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংহতিতে সহায়তা করবে।
সরকারের লক্ষ্য হল দক্ষ ও বৈধ অভিবাসীদেরকে দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান করে দেশের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা। এ ধরনের নীতি পরিবর্তন ইতালির শ্রম বাজারে অভিবাসী কর্মশক্তির অবদান বাড়াতে এবং জনসংখ্যা হ্রাসের সমস্যার মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে।
আইনের এই রূপান্তরকে ইতালির অভিবাসন নীতি ও ডিজিটাল সরকার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কোন অতিরিক্ত ডিজিটাল সেবা যোগ হবে এবং কীভাবে এই সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তা সরকার পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারণ করবে।
আইনটি ২০২৬ সালের বাজেটের অংশ হিসেবে অনুমোদিত হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নতুন প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এতে আইটি অবকাঠামো আপডেট, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত।
প্রশাসনিক জটিলতা কমে যাওয়ায়, আবেদনকারীর জন্য সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, সরকার দাবি করে যে এই পদক্ষেপগুলো নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং দুর্নীতির ঝুঁকি হ্রাস করবে।
অভিবাসী সংগঠনগুলোও এই পরিবর্তনকে ইতালির আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করেছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি সমন্বয়ের প্রেক্ষাপটে। তারা আশা করে, ডিজিটাল সেবা গ্রহণের মাধ্যমে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও অনুরূপ সংস্কার গ্রহণ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইতালির নাগরিকত্ব আইন এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রসারিত সময়সীমার মাধ্যমে আবেদনকারীর সুবিধা বাড়াতে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই রূপান্তর আগামী বছর থেকে ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের অভিবাসন নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



