33 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিস্লাম এলাকায় ভোটার এনআইডি ও ফোন নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ

স্লাম এলাকায় ভোটার এনআইডি ও ফোন নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ

ঢাকার বিভিন্ন স্লাম এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের ঘটনা বাড়ছে, বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এই সংগ্রহের লক্ষ্য ভোটের জন্য সমর্থক সংগ্রহ এবং ভোটার তালিকা আপডেট করা, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত কাজের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের জানুয়ারি ২২ তারিখের প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু ব্যক্তি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষত এনআইডি এবং ফোন নম্বর, সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, অন্যের এনআইডি তথ্য বহন, সংগ্রহ বা স্থানান্তর করা, পাশাপাশি প্রচারণার সময় দান প্রতিশ্রুতি দেওয়া, আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

গত সপ্তাহে প্রতিবেদক বাশান্তেক, কাফরুল, মিরপুর, কোরাইল, মোহাখালী সাট তলা এবং তেজগাঁও স্লাম এলাকায় গিয়ে কমপক্ষে পঞ্চাশজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা সবাই একই রকম অভিযোগে একমত যে, রাজনৈতিক কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ফটোকপি বা ফোন নম্বর চেয়েছেন।

স্লামগুলোতে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের প্রবণতা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল, তবে জানুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহের শুরুর দিকে কয়েকটি ঘটনা ঘটার পর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ায় কিছুটা কমে এসেছে। তবুও, এখনও বেশ কয়েকটি এলাকায় কর্মীরা সক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থকরা ভোটের জন্য দরিপল্লা চিহ্ন (সাম্যসূচক) ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি দেখার অনুরোধ করেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা সরাসরি মোবাইল ফোনে এনআইডি ছবি তোলার কথাও উল্লেখ করেছেন।

বাশান্তেকের বেড়াসি পল্লি ফিল্ড এলাকায় ৫৯ বছর বয়সী রুবিনা জানান, ২১ জানুয়ারি দুজন ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে দরিপল্লা সমর্থনের জন্য ভোট চেয়েছেন এবং এনআইডি দেখার পর তা মোবাইলে ছবি তুলেছেন। তিনি বলেন, এনআইডি দেখানোর পর কোনো অতিরিক্ত প্রশ্ন করা হয়নি, তবে তথ্যের ফটোগ্রাফ নেওয়া হয়েছিল।

বাশান্তেক স্লাম নং ১-এ ৫৩ বছর বয়সী রাহেলা বেগমেরও একই রকম অভিজ্ঞতা। তিনি বলছেন, প্রায় এক মাস আগে জামায়াত-এ-ইসলামি এবং বিএনপি দু’দলই তার বাড়িতে এসে এনআইডি দেখার অনুরোধ করে এবং দু’দলই একইভাবে তার এনআইডি ফটো তুলেছে। রাহেলা উল্লেখ করেন, কোনো প্রতিদান বা উপহারের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল।

বিএনপি কর্মীদেরও এনআইডি ফটোকপি বা ফোন নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু বাসিন্দা জানান, তাদের বাড়িতে এসে ভোটের জন্য সমর্থন চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোন নম্বর ও মোবাইল আর্থিক সেবা নম্বরও নেয়া হয়েছে। এই তথ্যগুলোকে ভোটার তালিকায় যুক্ত করে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে চাওয়া হতে পারে।

কয়েকটি ঘটনার পর নির্বাচনী কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, ফলে তথ্য সংগ্রহের গতি কিছুটা কমে এসেছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তবে এখনও কিছু এলাকায় কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, এনআইডি ও ফোন নম্বরের অননুমোদিত সংগ্রহ ও ব্যবহার দেশের তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করে এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কমিশনের সতর্কবার্তা অনুসারে, এই ধরনের কাজের সঙ্গে দান বা আর্থিক প্রতিশ্রুতি যুক্ত করা হলে অপরাধের মাত্রা বাড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, স্লাম এলাকায় এনআইডি সংগ্রহের মাধ্যমে ভোটার ভিত্তি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা চালানো সম্ভব। তবে এই পদ্ধতি যদি আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ত্বরিত হস্তক্ষেপ এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতা যদি নিশ্চিত করা যায়, তবে ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। স্লাম বাসিন্দাদের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ফলাফল আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments