গত রবিবার লস এঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো.কম আরেনায় অনুষ্ঠিত গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানের রেডকার্পেটে একটি অপ্রচলিত আনুষঙ্গিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বহু সেলিব্রিটি কালো-সাদা ‘ICE OUT’ পিন পরিধান করে, যা অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতি বিরোধী স্পষ্ট বার্তা বহন করে। এই পিনটি ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক নীতি চাহিদার প্রতীক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
বিলি ইলিশ, জাস্টিন ও হেইলি বিবার, ফিনিয়াস, কেহলানি এবং গীতিকার অ্যামি অ্যালেনসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী এই পিনটি পরিধান করে স্টেজে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে অলিভিয়া রড্রিগোও উপস্থিত ছিলেন, যদিও তিনি পিনটি পরেননি। এই উপস্থিতি রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে এবং বৃহৎ দর্শকদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে লক্ষ্য রাখে।
কেহলানি রেডকার্পেটে প্রকাশ করেন যে, আইসিই (ICE) নীতির বিরুদ্ধে তাদের মত প্রকাশ না করা মানে নীরবতা বজায় রাখা। তিনি বলেন, একই সময়ে একাধিক শক্তিশালী শিল্পী একত্রে দাঁড়িয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য না করা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অযৌক্তিক। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে আইসিই-কে সমালোচনা করা হয়েছে।
গায়িকা অ্যামি অ্যালেনও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই রাত্রি গ্র্যামির জন্য সর্বোচ্চ দৃশ্যমানতা প্রদান করে, তাই পিনটি পরা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা করেন, আরও অনেক শিল্পী এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে পিনটি পরবে এবং দেশের নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।
‘ICE OUT’ পিনের প্রচারটি আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, মারে-মটো, ন্যাশনাল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স এবং ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পাওয়ারসহ কয়েকটি সংগঠন সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এই উদ্যোগটি প্রথমে গোল্ডেন গ্লোবসের সময় শুরু হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ওপর বাড়তি মনোযোগের ফলে বিস্তৃত হয়েছে।
কাজের সূচনা জানুয়ারি ১১ তারিখে, গোল্ডেন গ্লোবসের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা আগে, যখন আইসিই কর্মকর্তা এক কর্মীকে গুলি করে মারেন, তখন কিছু কর্মী এই ঘটনার পর হলিউডের পরিচিত ব্যক্তিদের সাহায্য চেয়ে উদ্যোগ নেয়। তারা জানত, কিছু শিল্পী এই বিষয়টি নিয়ে জনমত গঠন করতে ইচ্ছুক। ফলে পিনের নকশা ও বিতরণ দ্রুত অগ্রসর হয়।
অভিযানটি মার্ক রাফালো, আরিয়ানা গ্র্যান্ডে, জিন স্মার্ট, নাতাশা লায়োন এবং ওয়ান্ডা সাইকসের মতো নামগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, যারা গোল্ডেন গ্লোবসের রাতে পিনটি পরিধান করে দৃশ্যমানতা বাড়ায়। এই সেলিব্রিটিদের সমর্থন পিনের প্রভাবকে বাড়িয়ে দেয় এবং মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এই পিনের মাধ্যমে সংগঠনগুলো অভিবাসন নীতি সংস্কারের দাবি তুলে ধরতে চায়, বিশেষ করে আইসিই-এর কঠোর প্রয়োগের বিরোধিতা করে। রেডকার্পেটের মতো উচ্চপ্রোফাইল ইভেন্টে এই ধরনের রাজনৈতিক চিহ্নের উপস্থিতি জনসাধারণের দৃষ্টিতে বিষয়টি ত্বরান্বিত করে এবং নীতি নির্ধারকদের উপর চাপ বাড়ায়।
অনেক পর্যবেক্ষক উল্লেখ করেন, গ্র্যামির রেডকার্পেট এখন শুধুমাত্র ফ্যাশন নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। শিল্পীরা পিনের মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি জনসাধারণের ইভেন্টে সমজাতীয় উদ্যোগের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গ্র্যামি রাতের এই ছোট কিন্তু শক্তিশালী পিনটি শিল্প ও সমাজের সংযোগের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নীতি পরিবর্তনের জন্য জনমত গঠন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।



