28 C
Dhaka
Sunday, May 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসিরিয়ার একমাত্র নারী মন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াতের পরিবর্তন উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ

সিরিয়ার একমাত্র নারী মন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াতের পরিবর্তন উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ

সিরিয়ার ট্রানজিশনাল সরকারে সামাজিক বিষয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হিন্দ কাবাওয়াত, দেশের প্রথম দিন থেকেই “কেন আরও নারী নেই?” প্রশ্ন তোলেন। তিনি একমাত্র নারী মন্ত্রী হিসেবে সশস্ত্র সংঘাতের পর দেশকে শান্তির পথে চালিত করার দায়িত্বে আছেন।

কাবাওয়াতের মন্ত্রিপরিষদে কাজের পরিবেশ কঠিন; অধিকাংশ মন্ত্রী তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রাক্তন যোদ্ধা, ফলে নীতি নির্ধারণে সামরিক প্রভাব স্পষ্ট। তিনি স্বীকার করেন, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪-এ প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বিক্ষোভকারী বাহিনী রাজধানী দখল করে আসাদ পরিবারের দীর্ঘ শাসন শেষ করার পর সরকারে ভুলগুলো অবশ্যম্ভাবী। “পরিবর্তনের সময় ভুল হয়,” তিনি বলেন।

প্রেসিডেন্টের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রিপরিষদে আরও নারীর অন্তর্ভুক্তি না করা। যদিও প্রেসিডেন্ট কাবাওয়াতকে আশ্বাস দিয়েছেন ভবিষ্যতে নারীর সংখ্যা বাড়বে, তবু বর্তমান কেবিনেটের নারীর অনুপাতে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সিরিয়ার বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠী সরকারী বাহিনীর ওপর দায়িত্ব আরোপ করে, এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেক্টারিয়ান সহিংসতা হাজারো প্রাণহানি ঘটিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাবাওয়াতের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অনাথ ও বিধবা, পাশাপাশি আসাদ শাসনকালে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া লক্ষাধিক মানুষের পরিবারকে সহায়তা করা।

অবসরপ্রাপ্ত বিরোধী নেতা হিসেবে বিদেশে সময় কাটিয়ে ফিরে আসা কাবাওয়াত, এখন দেশের সবচেয়ে দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছেন। প্রায় ১৪ বছর চলা গৃহযুদ্ধের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে; তাদের জন্য কাজের সুযোগ ও নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা তার প্রধান অগ্রাধিকার।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার ৯০% জনসংখ্যা দারিদ্র্যের সীমার নিচে বসবাস করে। এই বাস্তবতা কাবাওয়াতের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে, যেখানে তিনি জরুরি মানবিক সহায়তা ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের দাবি করেন।

জানুয়ারির শুরুর দিকে তিনি উত্তরের আলেপ্পো শহরে গিয়ে হাজারো শরণার্থীর আশ্রয়স্থল পরিদর্শন করেন, যেখানে সরকারী বাহিনী ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (SDF) এর মধ্যে সংঘর্ষ পুনরায় তীব্রতা পেয়েছিল। এই পরিদর্শনটি শরণার্থীদের অবস্থা জানার এবং তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রদান করার উদ্দেশ্যে করা হয়।

গত গ্রীষ্মে তিনি দক্ষিণের একটি শহরে, যেখানে প্রধানত দ্রুজ সম্প্রদায় বসবাস করে, সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। সেখানে দ্রুজ ও বেডুয়িনদের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষের পর শহরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল, এবং মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন তীব্র ছিল। কাবাওয়াতের এই প্রচেষ্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ইচ্ছা প্রকাশ করে।

কাবাওয়াতের মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিসর বিস্তৃত; তিনি অর্কেস্ট্রা মতো বিভিন্ন দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে বাধ্য। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে শ্রম বাজারের পুনর্গঠন, বেকারত্ব কমানো, এবং বিশেষ করে নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানো। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর অংশগ্রহণ না বাড়লে সামাজিক পুনর্গঠন অসম্পূর্ণ থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, বাস্তবায়ন এখনও ধীর। কাবাওয়াতের মতে, সরকারকে নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে ওঠে।

সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে কাবাওয়াতের অবস্থান চ্যালেঞ্জপূর্ণ, তবে তিনি দেশের পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার উদ্যোগ ও নীতি দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও পুনরুদ্ধারের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments