টটেনহ্যাম ও ম্যানচেস্টার সিটি লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-২ সমান স্কোরে শেষ হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি প্রথমার্ধে দু’গোলের সুবিধা নিয়ে মাঠে আধিপত্য বিস্তার করলেও, শেষার্ধে টটেনহ্যামের দ্রুত প্রত্যাবর্তন ম্যাচটিকে নাটকীয় মোড়ে নিয়ে যায়।
প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার সিটি দ্রুত দুইটি গোল করে ২-০ সুবিধা অর্জন করে। ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণাত্মক খেলায় শ্যুটিং ও পাসের গতি টটেনহ্যামের রক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করে, ফলে দুইটি গোলের মাধ্যমে তারা অগ্রগতি নিশ্চিত করে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ডোমিনিক সোলাঙ্কে ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার মার্ক গুইহির পেছনে বলটি ঠেলে দেয়। গুইহি পায়ের পিছনে বলটি গিয়ে গলপোস্টের দিকে গড়িয়ে যায়, তবে রেফারি ও ভিএআর কোনো ফাউল চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়। সোলাঙ্কের এই গোলটি রেফারির সিদ্ধান্তে বৈধ বলে ধরা হয়।
সোলাঙ্কের গোলের পর টটেনহ্যামের আক্রমণ আরও তীব্র হয় এবং তিনি একটি চমকপ্রদ ভলিতে সমান স্কোরের গোল করেন। এই গোলটি টটেনহ্যামের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ম্যানচেস্টার সিটির গেম প্ল্যানকে ব্যাহত করে।
ম্যাচের শেষের দিকে টটেনহ্যাম সমান স্কোরে পৌঁছায়, ফলে ম্যানচেস্টার সিটি প্রথমে গড়িয়ে নেওয়া দুই গোলের সুবিধা হারায়। শেষ পর্যন্ত দু’দলই একে অপরকে এক গোল করে, ফলে ম্যাচটি ২-২ ড্রয়ে শেষ হয়।
ম্যাচের পর ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্ডিওলা রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বললেন, “যদি কেন্দ্রীয় ডিফেন্ডার থেকে স্ট্রাইকারে ফাউল হয়, তবে তা পেনাল্টি হওয়া উচিত।” গার্ডিওলা এই মন্তব্যটি বিবিসি রেডিও ৫ লাইভে জানান এবং রেফারির সিদ্ধান্তকে “প্রিমিয়ার লিগের একটি অদ্ভুত ঘটনা” বলে উল্লেখ করেন।
টটেনহ্যামের কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কও সোলাঙ্কের গোলে স্পষ্ট সংস্পর্শের কথা উল্লেখ করে রেফারির সিদ্ধান্তে সমালোচনা করেন। তিনি বললেন, “ফাউলের সীমা স্পষ্ট নয়, তবে আমরা উচ্চতর মানদণ্ডের আশা করি।” ফ্র্যাঙ্কের মন্তব্য গার্ডিওলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং রেফারির সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই ড্রয়ের ফলে ম্যানচেস্টার সিটি শিরোপা লিডার আর্সেনালের থেকে ছয় পয়েন্টের পিছিয়ে যায়। আর্সেনাল বর্তমানে লিগে শীর্ষে রয়েছে, আর ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট সংগ্রহে এই ম্যাচটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গার্ডিওলা সাম্প্রতিক সপ্তাহে রেফারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলেছেন। তিনি নিউক্যাসলে কারাবাও কাপের ম্যাচে অ্যান্টোয়ান সেমেন্যোর গোল বাতিল হওয়া, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডায়োগো দালোটের রেড কার্ড না পাওয়া এবং উলভসের বিরুদ্ধে হ্যান্ডবলে পেনাল্টি না দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
গার্ডিওলা আরও যোগ করেন, “প্রথম গোলের পর রেফারির সিদ্ধান্তে একটি আবেগীয় সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার ফলে গেমের গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।” তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডের ম্যাচে এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব গেমের প্রবাহকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে।
আগামী সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটি লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা শিরোপা শিরোপা লিডার আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্টের পার্থক্য কমানোর চেষ্টা করবে। কোচ গার্ডিওলা দলকে রেফারির সিদ্ধান্তের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে নিজের খেলা দিয়ে ফলাফল অর্জনের পরামর্শ দেন।
ম্যাচের পর বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রেফারি সিদ্ধান্তের বিতর্ক ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা যাত্রায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে, তবে দলটি এখনো শীর্ষে ফিরে আসার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখে।



