ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে বিএনপি ঢাকা শহরের কিছু নির্বাচনী এলাকায় ভোটার স্থানান্তর অস্বাভাবিক হারে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে। দলটি উল্লেখ করেছে যে, বিশেষ করে ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫ এবং ঢাকা-১১ আসনে তার প্রার্থীর সমর্থনে বহিরাগত ভোটারদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দলটি নির্বাচন কমিশনকে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে।
বিএনপি দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ঢাকা মহানগরীর ২০টি আসনে নভেম্বরের আগে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এই সংখ্যাকে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে বলে ব্যাখ্যা করেছেন এবং কোনো অনিয়মের ইঙ্গিত খুঁজে পাননি।
সংসদীয় নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, তার আগে আচরণবিধি, এনআইডি সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত-এ-ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক দল একে অপরের ওপর অভিযোগ-প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে এবং জাতীয় নাগরিক দল আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
গত বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছিল; সেপ্টেম্বর মাসে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের গেজেট প্রকাশের পর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তালিকাভুক্তির শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়। তালিকাভুক্তির পর মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তরের সময়সীমা ছিল, যার মধ্যে আবেদনকারী সাধারণত উপজেলা বা থানা পর্যায় থেকে অনুমোদন পেতেন।
ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, এই বছর সারা দেশে মোট ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোটার তাদের নির্বাচনী এলাকা পরিবর্তন করেছে, তবে কোনো অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা অতিরিক্ত হারের তথ্য তাদের কাছে নেই। একই সময়ে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর উল্লেখ করেন যে, ভোটার স্থানান্তর সারা বছর জুড়ে চলমান একটি প্রক্রিয়া এবং এটি সাধারণত স্থানীয় প্রশাসনিক স্তর থেকে আবেদন পেয়ে সম্পন্ন হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৮ জানুয়ারি এক সাক্ষাতে উল্লেখ করেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে বহিরাগত ভোটারদের ঢাকা শহরে স্থানান্তরের কূটকৌশল ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, এই কৌশলটি অনৈতিক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটারদের বড় পরিমাণে স্থানান্তর করে ঢাকা মহানগরীর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপি এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভোটার স্থানান্তরের মোট সংখ্যা, কোন কোন অঞ্চল থেকে কতজন ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছে, স্থানান্তরের তারিখ এবং কারণসহ বিশদ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। দলটি দাবি করে যে, এসব তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে নির্বাচনের ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়মের প্রমাণ প্রকাশ করেনি এবং স্থানান্তরের সংখ্যা স্বাভাবিক বলে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। তবে ভোটার স্থানান্তরের ব্যাপারে উন্মুক্ততা এবং তথ্যের প্রাপ্যতা নিয়ে চলমান বিতর্ক আগামী সপ্তাহে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাকে তীব্র করবে।



