খুলনা-৫ (দুমুরিয়া‑ফুলতলা) নির্বাচনী প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত উত্সব, গণসংযোগ ও পথসভায় ক্ষমতার জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লালন‑পালন নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
পরওয়ার মাগুরখালী, শরাফপুর এবং আটরা‑গিলাতলা ইউনিয়নের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বলেন, ক্ষমতার সন্ধানে একটি নির্দিষ্ট মহল পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে এবং অর্থের বিনিময়ে এই গোষ্ঠীগুলি দল বদল করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে হুমকি ও ভয় দেখিয়ে ভোটারদের রায় কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের ভয়ভীতি ব্যবহারকারী ব্যক্তির চরিত্র নষ্ট হয় এবং একই ধরনের পরিণতি তার সাথেও ঘটবে, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন।
গোলাম পরওয়ার ভোটারদের আহ্বান জানান, ভয় দেখিয়ে স্থানীয় মানুষকে দমন করা সম্ভব নয়; যারা ভয় দেখানো হচ্ছে, তারা এই মাটির সন্তান, তাদের জন্মস্থানই এখানেই। তিনি বলেন, ভয়ভীতি ভিত্তিক কোনো রাজনৈতিক কৌশল কাজ করবে না।
প্রার্থী স্থানীয় উন্নয়ন ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে সক্ষম এমন প্রতিনিধিকে বেছে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এমন একজন এমপি দরকার যিনি ঢাকা বা লন্ডনে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে না যান, বরং এই এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করবেন।
পরওয়ার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সরাসরি মন্তব্য করেননি, তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচনী সময়ে হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগ বাড়তে পারে। এই মুহূর্তে কোনো বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে উঠে এসেছে, যখন দেশের বিভিন্ন অংশে ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি নিজেকে এই উদ্বেগ দূর করার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রার্থী উল্লেখ করেন, যদি ভোটাররা ভয়ভীতি থেকে মুক্ত হয়ে তাদের অধিকার ব্যবহার করে, তবে নির্বাচনের ফলাফল সত্যিকারের জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করবে। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার জন্য একত্রে কাজ করতে।
এই সমাবেশে উপস্থিত মানুষেরা পরওয়ারকে সমর্থন জানিয়ে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে এবং তার দাবিগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি সমাবেশের শেষে ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে গেছেন এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
গোলাম পরওয়ারের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লালন‑পালন সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
পরবর্তী সময়ে প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আরও পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



