ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম রবিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিলে নারী নিপীড়ন ও হত্যার অভিযোগের প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান পূর্বে নিপীড়িত ছিলেন এবং এখনো জালিমে পরিণত হওয়া উচিত নয়; যদি কোনো মা বা বোনের ওপর আবার আক্রমণ করা হয়, তবে দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের সমন্বয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
কায়েম উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকা দলের নেতা দেশে ফিরে আসার পর তাদের শীর্ষ কর্মীরা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের কোনো ক্ষমা করা হবে না। তিনি আরও জানান, ওই দল বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পরিবর্তে মাফিয়াতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির আগে থেকেই তারা পরাজিত হয়েছে।
বিএনপির কিছু সদস্যের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ এবং মামলাতন্ত্রের মাধ্যমে মাফিয়াতন্ত্র গড়ে তোলার ইচ্ছা কায়েমের মতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো নারী বা তার পরিবারের ওপর আক্রমণ করা হয়, তবে তা সহ্য করা হবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় স্তরে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বক্তব্যের সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নীরবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কমিশনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে। শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং গাজীপুরে নারী হত্যার মামলায় ন্যায়সঙ্গত বিচারের দাবি তিনি তীব্রভাবে তুলে ধরেন।
সেই মঞ্চে জাকারাতা ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াজুল ইসলামও মন্তব্য করেন, দেশের বাইরে পালিয়ে গিয়ে এখন ফিরে এসে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। শিবিরের অন্যান্য নেতারা যোগ করেন, ধারাবাহিকভাবে ছাত্র সংসদের পরাজয় বিএনপিকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া করে তুলেছে এবং ছয় মিলিয়ন নারী ভোটার দলকে বয়কট করেছে।
সাদিক কায়েমের এই সতর্কতা ও দাবি গাজীপুরে উপস্থিত হাজারো অংশগ্রহণকারীর মধ্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, নারী নিপীড়ন ও হত্যার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে এবং যে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই বক্তব্যের পর, উপস্থিতদের মধ্যে একতাবদ্ধতা ও প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পায়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দেয়।



