রংপুর‑৪ (কাউনিয়া‑পীরগাছা) আসনে রবিবার রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় জাতীয় নাগরিক দল (JNP) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপি’র প্রকাশ্য ‘হ্যাঁ’ অবস্থানকে গোপনে ‘না’ প্রচারণা হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ওপেনে সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে, তবে গোপনে ভোটারদের ‘না’ ভোটের জন্য কাজ চালাচ্ছে।
হাসনাতের মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটারদেরকে দুর্নীতি দূর করা এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানানো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি দেশের মানুষ সত্যিকারের স্বচ্ছ নির্বাচন চান, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই একমাত্র সমাধান।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা, যা তিনি ‘জাতীয় পার্টি’ বলে উল্লেখ করেছেন, ভোটের পক্ষে কোনো অবস্থান গ্রহণ করেনি। তিনি এই দলকে ১২ তারিখে তাদের আনুষ্ঠানিক দাফন সম্পন্ন করতে হবে, এমন রূপক ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক অপ্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
হাসনাতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং জামায়াত-এ-ইসলামির রংপুর মহানগরের আমির এ টি এম আজম খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সকল উপস্থিতি একত্রে আখতার হোসেনকে ভোটারদের সমর্থন দাবি করেন এবং তাকে রংপুর‑৪ আসনের জন্য গর্বের প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন।
হাসনাত আখতার হোসেনের রাজনৈতিক যোগ্যতা তুলে ধরে বলেন, তিনি শুধুমাত্র কাউনিয়ার গর্ব নয়, বরং দেশের যেকোনো আসন থেকে লড়াই করার সক্ষমতা রাখেন। তিনি হোসেনের দীর্ঘকালীন ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামকে উল্লেখ করে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার পক্ষে তার অবদানকে প্রশংসা করেন।
এই রেলিক্সের পর, জাতীয় নাগরিক দল রংপুর‑৪ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাবে এবং বিএনপি’র গোপন ‘না’ কার্যক্রমকে উন্মোচিত করার জন্য অতিরিক্ত র্যালি ও সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি দলটি ভোটারদের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব সফলভাবে পৌঁছে দিতে পারে, তবে আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতার কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে বিএনপি’র গোপন ‘না’ প্রচারণা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, রংপুর‑৪-এ অনুষ্ঠিত এই সভা জাতীয় নাগরিক দলের ‘হ্যাঁ’ ভোটের বার্তা এবং বিএনপি’র গোপন ‘না’ কার্যক্রমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে, যা আসন্ন গণভোটের রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।



