স্টকলি পার্কে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের মুখোমুখি ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলা ১০-মানের ব্রেন্টফোর্ডের মুখে কঠিন অবস্থায় আটকে গিয়েছিল। ব্রেন্টফোর্ডের কেভিন শ্যাডে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পরও দলটি স্কোরের সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। ভিলার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা ইতিমধ্যে পিছিয়ে থাকা স্কোরের কারণে রাগে জ্বলে উঠেছিল, ফলে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায়।
ট্যামি আব্রাহাম প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ পেয়ে বলকে জালে পাঠানোর পর গৌরবের মুহূর্তের স্বপ্ন দেখছিল। তিনি সাত বছর আগে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রোমোশন জয় করার পর প্রথম গোলের স্বাদ নিতে চেয়েছিলেন, তবে রেফারি টিমের VAR রিভিউয়ের ফলে সেই গোলটি বাতিল হয়ে গেল। ভিলার খেলোয়াড় ও ভক্তদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
VAR অফিসার পল টিয়ার্নি বড় স্ক্রিনে ১৯ সেকেন্ডের ভিডিও রেকর্ডকে পিছনে ঘুরিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত নিলেন যে লিওন বেইলি, যিনি বিপরীত প্রান্তে খেলছিলেন, বলকে মাঠের বাইরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। রেফারি টিমের মাইক্রোফোনে শোনা যায়, “রিভিউয়ের পরে বল স্পষ্টতই আউট, তাই পুনরায় থ্রো‑ইন হবে ব্রেন্টফোর্ডের দিক থেকে।” এই ঘোষণার আগে প্রায় চার মিনিটের VAR বিরতি ম্যাচের গতি ধীর করে দিয়েছিল।
রিভিউ শেষ হয়ে রেফারির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের স্পিকারে গর্জন শোনা গেল। ভিলার সমর্থকরা হতাশা ও রাগের মিশ্রণ প্রকাশ করে চিৎকারে ভরে উঠল, আর কিছু ভক্তের মুখে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তে গর্জন শোনা যায়। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ সেন্টারও বলকে “আক্রমণমূলক দখল পর্যায়ে (APP) আউট” হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা সিদ্ধান্তের বৈধতা নিশ্চিত করে।
বেইলির আউটের পর ভিলার দ্রুত আক্রমণ শুরু হয়। জেডন স্যাঞ্চো ডান দিক থেকে জর্ডান হেন্ডারসনকে পেরিয়ে কাওহিন কেলেহারের দিকে শট মারতে বাধ্য করে; কেলেহার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ডিফেন্ডারকে থামায়, তবে ট্যামি আব্রাহাম রিবাউন্ডে প্রথমে পৌঁছে বলকে ঘুরিয়ে উদযাপন শুরু করে। রিবাউন্ডের পরেও রেফারির সিদ্ধান্তে গোলটি স্বীকৃত হয়নি, ফলে ভিলার স্কোরে কোনো পরিবর্তন না ঘটায়।
ব্রেন্টফোর্ডের দিকে থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ গড়ে ওঠে। মাইকেল কায়োডে থ্রো‑ইন থেকে বলকে বক্সে পাঠায়, যেখানে ক্রিস্টোফার আজার শট নিতে চেষ্টা করে, তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই সুযোগটি ব্রেন্টফোর্ডের মাত্র দুইটি শটের একটি ছিল, আর অন্যটি ড্যাঙ্গো ওয়াটারার প্রথমার্ধের স্টপেজ সময়ে করা গোল।
ড্যাঙ্গো ওয়াটারার গোলটি দীর্ঘ পাসে চ্যানেলে দৌড়ে গিয়ে ইগোর থিয়াগোর জন্য বল স্কোয়ার করার চেষ্টা করেছিল, যা পাউ টোরেস বাধা দেয়। বাধা সত্ত্বেও তিনি বাম পায়ের ভিতরের দিকে কাটিয়ে নিখুঁত শট দিয়ে গোলের জয়লাভ করেন। এই গোলটি কেভিন শ্যাডের লাল কার্ডের পাঁচ মিনিট পর ঘটেছিল, যা ব্রেন্টফোর্ডকে এক সংখ্যায় কমিয়ে দিলেও তারা স্কোরে সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
কেভিন শ্যাডের লাল কার্ডের ফলে ব্রেন্টফোর্ডের খেলোয়াড় সংখ্যা কমে গেলেও দলটি রক্ষণশীলভাবে খেলতে সক্ষম হয়। শ্যাডের বহিষ্কারের পরও ব্রেন্টফোর্ডের আক্রমণাত্মক চাপ কমে না, এবং তারা ভিলার চাপের মুখে নিজেরা একবার গোল করতে পারলেও তা VAR রিভিউয়ের মাধ্যমে বাতিল হয়।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত উভয় দলই অতিরিক্ত স্কোর না করে, তবে VAR সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে। রেফারির সিদ্ধান্তের বৈধতা ও VAR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী সপ্তাহে উভয় দলই তাদের লিগ সূচি অনুসারে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, এবং এই ম্যাচের VAR বিতর্ক ভবিষ্যতে রেফারির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।



