২৬ বছর বয়সী উজ্জ্বল গায়িকা ইফুনান্যা নওয়াঞ্জে শনিবার আবুজার বাসায় সাপের কামড়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটি ঘটার পর দেশের সঙ্গীত জগতে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে।
ইফুনান্যা ২০২১ সালে “দ্য ভয়েস নাইজেরিয়া”তে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি জ্যাজ, অপেরা, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও সোলের মিশ্রণ দিয়ে অনন্য শৈলী গড়ে তোলেন। তার কণ্ঠস্বরের বহুমুখিতা তাকে তরুণ শিল্পীদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছিল।
সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি প্রশিক্ষিত স্থপতি হিসেবেও কাজ করতেন, যা তার বহুমুখী প্রতিভার আরেকটি দিক প্রকাশ করে। সমবায় গায়কদল আমেমুসো কোরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সঙ্গীত পরিচালক সাম এজুগু তাকে “উদীয়মান তারকা” বলে প্রশংসা করেন। তিনি বছরের শেষের দিকে নিজের প্রথম একক কনসার্টের পরিকল্পনা করছিলেন।
সপ্তাহের শেষের দিকে, ইফুনান্যা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে জেগে ওঠেন। একই বাড়িতে দুটো সাপ পাওয়া যায় বলে জানা যায়। ঘুমের মধ্যে অচেতন হয়ে ওঠা মুহূর্তে সাপের বিষ তার শিরায় প্রবেশ করে।
প্রথমে নিকটস্থ ক্লিনিকের দরজা ধাক্কা দিয়ে তিনি চিকিৎসা নিতে যান, তবে সেখানে অ্যান্টিভেনমের অভাবের কারণে তাকে হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর এক ধরনের অ্যান্টিভেনম পাওয়া গেল, তবে অপরটি অনুপস্থিত ছিল।
চিকিৎসকরা ইফুনান্যার শ্বাসপ্রশ্বাস স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না, কেবল হাতের ইশারায় নিজের অবস্থা প্রকাশ করতে পারছিলেন। শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়।
সাম এজুগু দ্রুত অ্যান্টিভেনমের অভাব পূরণ করার জন্য শহরের অন্য দিক থেকে ওষুধ সংগ্রহে বেরিয়ে যান, তবে ফিরে এসে তিনি জানেন ইফুনান্যা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালের কর্মীরা শেষ মুহূর্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ইফুনান্যার সঙ্গে গাওয়া বন্ধু হিলারী ওবিন্না তাকে “অত্যন্ত মধুর, বিনয়ী, বুদ্ধিমান ও প্রতিভাবান” বলে স্মরণ করেন। তিনি এবং অন্যান্য কোরের সদস্যরা রাতভর হাসপাতালে অপেক্ষা করে ছিলেন, আশা করছিলেন কোনো চমৎকার ঘটনার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষা পাবে। তবে শোকের ছায়া সবকে আচ্ছন্ন করে দেয়।
ইফুনান্যার অকাল মৃত্যুর পর সঙ্গীত জগতে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। তার পরিবার ও বন্ধুদের বলা হয় যে তারা রাতের নিদ্রা হারিয়েছেন এবং শোকের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্মে মনোযোগ দিতে পারছেন না।
এই ঘটনা নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোগী নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের ধারাবাহিকতা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চিমামান্ডা নগোজি আদিচির ২১ মাসের শিশুর মৃত্যুর ঘটনা। ঐ ক্ষেত্রে হাসপাতাল কোনো দোষ স্বীকার করেনি।
ইফুনান্যার মৃত্যু এবং অন্যান্য অনুরূপ ঘটনা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ও জরুরি ওষুধের ঘাটতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। নাগরিকরা এখনো আশা করছেন যে সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
শোকের মুহূর্তে সঙ্গীতপ্রেমীরা ইফুনান্যার স্মৃতিতে গান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তার অবদান ও সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।



