গত সপ্তাহের শেষের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ইথিয়াদ স্টেডিয়ামে চেলসিকে 5-1 তে পরাজিত করে, লিগের শীর্ষে 12 পয়েন্টের সুবিধা অর্জন করে। কেরোলিনের হ্যাট-ট্রিক এই জয়ের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে প্রকাশ পায়।
প্রথমার্ধে চেলসির সেট-পিস পরিষ্কার করতে ব্যর্থতা থেকে কেরোলিনের ডিফ্লেক্টেড শট গোলের সূত্রপাত করে। এই গোলের পর চেলসির আক্রমণ বাড়লেও ম্যানচেস্টার সিটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়।
কেডি শাওয়া ভিভিয়ান মিয়েডেমার থ্রু পাস গ্রহণ করে, নাওমি গিরমাকে ছাড়িয়ে হ্যান্না হ্যাম্পটনকে পেরিয়ে দ্বিতীয় গোল সম্পন্ন করে। শাওয়ার এই গোল ম্যানচেস্টার সিটিকে 2-0 এগিয়ে নিয়ে যায়।
চেলসির খেলোয়াড়রা গিরমা শাওয়ার দ্বারা ফাউল হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেও, রেফারির সিদ্ধান্তে গোলের বৈধতা বজায় থাকে। ফলে প্রথমার্ধে চেলসির কোনো গোল না হয়ে দলটি 0-2 তে পিছিয়ে থাকে।
হাফটাইমে চেলসির রক্ষণাত্মক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডে বলের আধিপত্য বাড়ে। কেরোলিন দ্রুত দৌড়ে গিয়ে হ্যাম্পটনকে চিপ করে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করে।
দ্বিতীয় গোলের পর কেরোলিন আবার দ্রুত দৌড়ে হ্যাম্পটনের সামনে এসে চিপ করে তৃতীয় গোল করেন, এভাবে তিনি হ্যাট-ট্রিক সম্পন্ন করেন। তার গতি ও ফিনিশিং ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণকে আরও তীব্র করে।
এরপর ম্যানচেস্টার সিটি অতিরিক্ত দুই গোল যোগ করে, মোট পাঁচ গোলের বড় পার্থক্য বজায় রাখে। চেলসির একমাত্র গোল হ্যাম্পটন নিজে করে, তবে তা ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারেনি।
স্টেডিয়ামের ভক্তরা জয়ের পর “ইজি, ইজি, ইজি” চিৎকার করে, দলকে উল্লাসে ডুবিয়ে দেয়। উল্লাসের মাঝে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী মুখভঙ্গি নিয়ে মাঠ ছেড়ে যায়।
এই জয়ের পর লিগ টেবিলে ম্যানচেস্টার সিটি 12 পয়েন্টে চেলসির আগে, 11 পয়েন্টে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগে অবস্থান করে, আর আটটি ম্যাচ বাকি। শীর্ষে তাদের আধিপত্য বজায় রাখার সম্ভাবনা বাড়ে।
চেলসির শিরোপা স্বপ্ন ডিসেম্বরের এভারটন পরাজয়ের পর থেকে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। ডিসেম্বরের পর থেকে পাঁচটি ম্যাচে তিনটি হার, এবং জুলাই ২০১৫ের পর প্রথমবার ধারাবাহিক পরাজয় তাদের অবস্থানকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে দেয়।
চেলসির কোচ সোনিয়া বোম্পাস্টর দলকে পুনরুদ্ধার করতে চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন, তবে বর্তমান পারফরম্যান্সে শিরোপা অর্জনের পথ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ আন্দ্রে জেগলেটসের দল আত্মবিশ্বাসী, পরবর্তী ম্যাচে ইমিরেটস স্টেডিয়াম ও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। তবে শীর্ষে তাদের আধিপত্য বজায় রাখার সম্ভাবনা বেশি।
সার্বিকভাবে, কেরোলিনের পারফরম্যান্স ম্যানচেস্টার সিটিকে লিগের শীর্ষে স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার গতি, শুটিং ও চিপ শটের দক্ষতা দলকে বড় পার্থক্য দিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে।
এই জয় ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা রক্ষার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, আর চেলসির জন্য এখন পুনর্গঠন ও শিরোপা স্বপ্ন পুনরায় জাগিয়ে তোলার সময়।



