২ ফেব্রুয়ারি রাশমিকা মান্দান্না ও ভিজয় দেবেরাকোন্ডা বিবাহের সম্ভাবনা নিয়ে অনলাইন জগতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গুজবের মূল সূত্র ছিল সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্ট, যেখানে উভয়কে উডাপুরের কোনো উচ্চমানের হোটেলে বাগদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে উভয় পক্ষই এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিতিকরণ দেয়নি।
গুজবটি ১ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে তীব্রতা পায়, যখন বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার উডাপুরের ভ্রমণকালে দেখানো ছবিগুলোকে বিবাহের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করে। সেই ইনফ্লুয়েন্সার উডাপুরের একটি বিলাসবহুল ভেন্যুতে দেখা দৃশ্যকে ‘আইটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা গুজবের বীজ রোপণ করে।
উডাপুরের ঐ ভেন্যুটি সত্যিই উচ্চমানের, তবে সেখানে কোনো বিবাহের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা চলছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইনফ্লুয়েন্সার যে দৃশ্য দেখেছেন, তা সম্ভবত সাধারণ ইভেন্টের জন্য ব্যবহৃত স্থান, যা গুজবের সূত্র হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
রাশমিকা মান্দান্না গুজবের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ২ ফেব্রুয়ারি কোনো বিবাহের পরিকল্পনা নেই। তিনি সামাজিক মিডিয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে এই গুজবকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত গুজবের ওপর ভিত্তি করে কোনো অনুমান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ভিজয় দেবেরাকোন্ডা সম্পর্কেও একই রকম কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রাশমিকার প্রকাশের পর থেকে তিনি কোনো বিবাহের পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো তথ্য শেয়ার করেননি। উভয়ই ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই ধরনের গুজবের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেছেন।
গুজবের পরবর্তী পর্যায়ে কিছু অনলাইন ব্যবহারকারী ফেব্রুয়ারির অন্য দুই তারিখকে সম্ভাব্য বিবাহের দিন হিসেবে উল্লেখ করতে শুরু করেন। তবে এই তারিখগুলোও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে নয়, বরং অনুমান ও কল্পনার ফলাফল। একাধিক মন্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয় যে, যদি সত্যিই দু’টি বিবাহের পরিকল্পনা থাকে, তবে তা এক মাসের মধ্যে কীভাবে সম্ভব হবে।
এই ধরনের অনুমানমূলক আলোচনা মিডিয়ার দায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে বিনোদন ও লাইফস্টাইল বিভাগে গুজবের ভিত্তিতে লেখালেখি করা হলে পাঠকের মধ্যে ভুল ধারণা গড়ে উঠতে পারে। তাই প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে তথ্য যাচাই করে, নিশ্চিত না হওয়া বিষয়গুলোকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকাশ করা উচিত।
জনসাধারণের মধ্যে রাশমিকা ও ভিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। বহু ভক্ত ও অনুসারী সামাজিক নেটওয়ার্কে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে অধিকাংশই এখনো অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষায়। গুজবের প্রভাব কমাতে উভয় পক্ষের স্পষ্ট যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, গুজবের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে দম্পতির নিজস্ব ঘোষণার অপেক্ষা করা উচিত। বিবাহের তারিখ, স্থান ও অনুষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র দম্পতি নিজেই প্রকাশ করলে তা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
এ পর্যন্ত রাশমিকা মান্দান্না ও ভিজয় দেবেরাকোন্ডা উভয়ই বিবাহের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় গুজবকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। গুজবের উত্স ও প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকায় মিডিয়া ও পাঠকদের দায়িত্ব হল তথ্য যাচাই করে, অনুমানমূলক বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে সত্যিকারের খবর উপস্থাপন করা।
দম্পতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা দ্রুতই জনসাধারণের নজরে আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত গুজবের চক্রে না পড়ে, অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষা করা উচিৎ। এভাবে গুজবের প্রভাব কমিয়ে, দম্পতির গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করা সম্ভব হবে।
সর্বশেষে, রাশমিকা মান্দান্না ও ভিজয় দেবেরাকোন্ডা উভয়ই তাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য গুজবের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছেন। গুজবের ভিত্তিতে কোনো অনুমান না করে, দম্পতির নিজস্ব সময়ে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা সর্বোত্তম পদ্ধতি হবে।



