ঢাকার শাহবাগে শাহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে মোট ৩,২৬৩ ডাক্তার যোগদান করেন। এই নতুন কর্মীসংখ্যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।
যৌথভাবে যোগদান করা ডাক্তারের মধ্যে ২,৯৮৪ জনকে সহকারী সার্জন ও ২৭৯ জনকে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। এদের প্রত্যেকেরই প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকায় সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর। সকল কর্মকর্তাই নতুন ডাক্তারদের স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
ডা. সায়েদুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অন্তর্বর্তী সরকার পদসৃজন থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও শেষ পর্যন্ত চাকরিতে যোগদান পর্যন্ত সব ধাপ সম্পন্ন করেছে।
তিনি নতুন ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে বললেন, তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। উপশহর ও উপজেলায় চিকিৎসা সেবার ঘাটতি কমাতে এই নতুন কর্মীসংখ্যা সহায়ক হবে।
পদায়নের ক্ষেত্রে মেধা ও মানবিক গুণাবলীকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জোর দিয়ে বললেন। দম্পতি একসাথে একই স্থানে কাজ করার জন্য অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে, যাতে পরিবারিক সমন্বয় বজায় থাকে।
দুর্লভ রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য বিশেষ বিবেচনা করা হবে, তবে সামগ্রিকভাবে পদায়ন মেধাভিত্তিক হবে এবং মানবিক দিকও যুক্ত থাকবে। এই নীতি অনুযায়ী যোগ্যতা ও নৈতিকতা দুটোই মূল্যায়ন করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ ছিল। নির্বাচন পর্যায়ে কোনো পক্ষপাতের অভিযোগ না থাকায় প্রক্রিয়ার বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে।
নতুন ডাক্তারদের পদায়নও একই নীতিতে হবে, যাতে যোগ্যতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে। তাদের কর্মস্থলে দ্রুত সংযুক্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
উপশহর ও উপজেলা স্তরে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে এই নতুন কর্মীসংখ্যা কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সকল কর্মকর্তাই আশাবাদী। প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে রোগীর অপেক্ষার সময় কমবে এবং সেবা মানোন্নয়ন হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে নতুন ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে, যাতে তারা তৎক্ষণাৎ সেবা প্রদান করতে পারে। এছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমগ্র উন্নয়নে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।
পাঠকদেরকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা ও সচেতনতা বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে, এবং নতুন ডাক্তারদের কাজের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা গুণগত মান বাড়াতে এই পদক্ষেপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



