18 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের টুইটার হ্যাকিং প্রকাশ, অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি

জামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের টুইটার হ্যাকিং প্রকাশ, অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি

ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী পথসভায় ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান টুইটার (এক্স) হ্যান্ডেল হ্যাক হয়ে নোংরা পোস্ট প্রকাশের ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে হ্যাকিংয়ের দায়িত্বী ব্যক্তিদের সনাক্ত করা হয়েছে এবং জাতির সামনে তাদের পরিচয় উন্মোচন করা হবে।

হ্যাকিংয়ের পরপরই জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষ থেকে জানানো হয় যে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে একটি অবমাননাকর পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, যা মূলত নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পোস্টটি হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত হলেও তা হ্যাকিংয়ের ফলাফল বলে দাবি করা হয়েছে।

পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বে জামায়াত-এ-ইসলামির ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুবকরা দেশের স্বপ্নের নির্মাণে অগ্রভাগে থাকবে, আর বয়স্করা পেছন থেকে সমর্থন ও সাহস যোগাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তি অব্যাহতি পাবে না এবং সমতার ভিত্তিতে দেশ গড়া হবে। নারীর প্রতি কোনো হেনস্থা সহ্য করা হবে না, এবং চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা থাকবে।

অধিকন্তু, তিনি কিছু লোকের পরিবারিক কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত মন্তব্যকে সমালোচনা করেন এবং বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এমন কাজের অনুমোদন দেওয়া যাবে না। তিনি রাজনৈতিক পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরে কিছু নেতার মাথা গরম হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে, মাঘ মাসে গরম মাথা গলে চৈত্র মাসে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া তিনি ১২ তারিখে ইনসাফের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

ডা. শফিকুর রহমানের একই দিনে জামালপুরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায়ও মন্তব্য থাকে। তিনি ঐ নির্বাচনের গুরুত্বকে তুলে ধরে বলেন, এটি এমন একটি নির্বাচন যা গত ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কবর রচনার সুযোগ দেবে। তিনি বিদ্যমান রাজনৈতিক ধাঁচকে ‘বস্তাপচা’ বলে সমালোচনা করেন এবং নতুন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার আহ্বান জানান।

হ্যাকিংয়ের ঘটনা এবং তার পরবর্তী স্পষ্টীকরণ জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। দলটি এখন থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

ডা. শফিকুরের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনী সময়ে দলের ভক্ত ও বিরোধী উভয়ের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তিনি যে হ্যাকিংয়ের দায়ী ব্যক্তিদের প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে, নারীর প্রতি অবমাননাকর পোস্টের ঘটনার পর দলটি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণের সংকেত দিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামি কীভাবে এই ঘটনার আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি মোকাবেলা করবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক নির্ধারণ করবে। দলটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ইনসাফের পক্ষে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফল ও দলের কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের বিশদ বিশ্লেষণ দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাজের অংশ হয়ে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments