18 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংক ১০,০০০ টাকার নিচের কৃষি ঋণের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়

বাংলাদেশ ব্যাংক ১০,০০০ টাকার নিচের কৃষি ঋণের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়

বাংলাদেশ ব্যাংক সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে যে তারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকার কৃষি ও গ্রামীণ ঋণের তথ্য জমা দেবে। এতে মোট মূলধন, সুদ/লাভ এবং বকেয়া ব্যালেন্সের বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ক্রেডিট বিভাগ সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে ইমেইল পাঠিয়ে জানিয়েছে যে এই তথ্যের চাহিদা একটি বোর্ড সদস্যের জরুরি নির্দেশের ফল। ইমেইলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ডেটা দ্রুত সংগ্রহ করে পরবর্তী সরকারের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।

প্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যে ঋণের মোট পরিমাণ, অর্জিত সুদ বা লাভ, এবং এখনও বকেয়া থাকা অর্থের পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকগুলোকে এই সব তথ্য একত্রিত করে ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এই পদক্ষেপটি বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২৯ জানুয়ারি ঘোষণার কয়েক দিন পর প্রকাশিত হয়। তারেক রহমান তার পার্টি শাসনে আসলে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকার কৃষি ঋণ, সুদসহ, মওকুফ করার এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান যে একটি পরিচালক এই বিষয়টি বোর্ডে উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে সরকার কোনো কৃষি ঋণ সংক্রান্ত নীতি গ্রহণ করলে দ্রুত তথ্য সরবরাহের জন্য প্রস্তুত থাকতে চায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তার মতে, এই সময়ে একই সঙ্গে রাজনৈতিক ঘোষণার সঙ্গে তথ্য চাহিদা দেখা যাওয়া কাকতালীয় হতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয়। তিনি এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত না দিয়ে কেবল প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেছেন।

ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ বিভাগে এই অনুরোধের প্রতি কিছুটা অসন্তোষের স্রোত দেখা দিয়েছে। ঋণ বিভাগের কর্মীরা জানান যে অতিরিক্ত ডেটা সংগ্রহের কাজ তাদের দৈনন্দিন কাজের চাপ বাড়িয়ে দেবে এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বলে তারা অনুভব করছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি পরবর্তী সরকার সত্যিই কৃষি ঋণ মওকুফের দিকে এগোয়, তবে ব্যাংকগুলোকে বড় পরিমাণে ঋণ হ্রাসের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই ধরনের নীতি পরিবর্তন ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা জরুরি।

ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ করতে পারবে। এছাড়া, ঋণ মওকুফের সম্ভাবনা থাকলে ব্যাংকগুলোকে ক্ষতি রিজার্ভ বাড়াতে বা নতুন ঋণ পণ্যের পরিকল্পনা করতে হতে পারে।

ব্যাংকগুলো এখন থেকে ডেটা সংগ্রহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে সমন্বয় বাড়াবে। একই সঙ্গে, ঋণ মওকুফের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি মূল্যায়নও শুরু হবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগটি তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে সহায়তা করবে, তবে ব্যাংকগুলোর জন্য অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি উভয়ই তৈরি করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments