18 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েল গাজায় এমএসএফের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়

ইসরায়েল গাজায় এমএসএফের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়

ইসরায়েল সরকার গাজায় কাজ করা Médecins Sans Frontières (MSF)কে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, কারণ সংগঠনটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কর্মী তালিকা প্রদান প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েল ৩৭টি মানবিক সংস্থাকে গাজা ও পশ্চিম তীরের কর্মীদের তথ্য জমা দিতে আদেশ করেছিল, যার মধ্যে MSF-ও অন্তর্ভুক্ত। ইসরায়েল দাবি করে যে কিছু কর্মী হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে, যদিও MSF এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে।

MSF শুক্রবার জানিয়েছে যে তারা গাজায় কাজ করা প্যালেস্টাইনি ও আন্তর্জাতিক কর্মীদের নামের তালিকা শেয়ার করবে না, কারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট গ্যারান্টি তারা পাননি। সংস্থা উল্লেখ করেছে যে তারা “অসাধারণ ব্যবস্থা” হিসেবে সীমিত শর্তে তালিকা প্রদান করতে প্রস্তুত, তবে ইসরায়েলি পক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অগ্রগতি হয়নি।

ইসরায়েলি ডায়াস্পোরা ও অ্যান্টি-সেমিটিজম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে MSF-এর তালিকা না দেওয়া মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য নির্ধারিত শর্তের লঙ্ঘন এবং তাই তারা “কার্যক্রম সমাপ্তি” প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মন্ত্রণালয় যুক্তি দেয় যে এই পদক্ষেপ টেররিস্ট গোষ্ঠীর মানবিক কাঠামোতে প্রবেশ রোধের জন্য প্রয়োজনীয়।

৩০ ডিসেম্বর ইসরায়েল সরকার ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেয়, যাদের গাজা ও পশ্চিম তীরের কাজ নতুন নিবন্ধন শর্ত পূরণে ব্যর্থ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে ActionAid এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলও রয়েছে, এবং তাদেরকে ৬০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা সহ দশটি দেশ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে নতুন শর্তগুলো মৌলিক সেবার প্রবেশে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করবে এবং গাজায় মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপকে “অবৈধ এবং মানবিক আইন লঙ্ঘনকারী” বলে সমালোচনা করেছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, গাজায় কাজ করা সংস্থাগুলোকে কর্মী তালিকা প্রদান করা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে অপরিহার্য। তবে মানবিক সংস্থাগুলো যুক্তি দেয় যে এমন তথ্য প্রকাশ কর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে, বিশেষ করে সংঘর্ষের তীব্রতা বিবেচনা করলে। এই দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নীতির মধ্যে একটি জটিল সমন্বয় সমস্যার উদাহরণ।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ইসরায়েলি শর্তগুলো মানবিক সহায়তার প্রবাহকে সীমিত করে গাজা অঞ্চলে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, ইসরায়েল দাবি করে যে টেররিস্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ রোধ করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এই দুই দৃষ্টিকোণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় টানাপোড়েন তৈরি করছে।

গাজায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উচ্চ, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও খাবারের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। MSF এবং অন্যান্য সংস্থার কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা সরাসরি রোগীর সেবা ও জরুরি চিকিৎসা প্রদানকে প্রভাবিত করতে পারে। ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের পরবর্তী পর্যায়ে সংস্থাগুলোকে ৬০ দিনের সময়সীমা মেনে কাজ বন্ধ করতে হবে, অথবা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের ওপর স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে আছে, তবে মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গাজায় মানবিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে, ভবিষ্যতে কোন সমঝোতা বা নতুন শর্তের আলোচনা হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

এই পরিস্থিতি গাজায় মানবিক সেবার প্রবাহকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ত্বরিত সমর্থন ও সমঝোতার দাবি বাড়াবে। সংস্থাগুলো আইনি উপায়ে বাধা প্রত্যাখ্যানের চেষ্টা করতে পারে, তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments