বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামি সহকারী সচিব অহসানুল মাহবুব জুবাইর আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি কর্তৃক জামাতে ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের অভিযোগকে অস্বীকার করে তা ‘অসুস্থতা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন দাবি কোনো সুস্থ মনের মানুষ থেকে আসতে পারে না এবং এটি জনমতের ভয় থেকে উদ্ভূত।
জুবাইর এই মন্তব্য করেন যখন তিনি জামাতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণের প্রতিবেদনসহ চিফ ইলেকশন কমিশনারের কাছে একটি স্মারক জমা দেন। অনুষ্ঠানে জামাতের নারী শাখার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
সেই দিনই, চারজনের একটি বিএনপি প্রতিনিধি দল চিফ ইলেকশন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, দুইজন ইলেকশন কমিশনার এবং ইসিসি সीनিয়র সেক্রেটারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় তারা বিভিন্ন এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের খবর তুলে ধরেন, যা বিএনপির উদ্বেগের মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন চালানোর প্রশ্নে জুবাইর জানান, জামাতের সকল কার্যক্রম প্রকাশ্য আলোকে করা হয় এবং রাতের অন্ধকারে কোনো প্রচার করা হয় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের ক্যাম্পেইন সর্বদা দিনের আলোয় অনুষ্ঠিত হয়।
নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগের মধ্যে সাইবারবুলিং, শারীরিক হিংসা এবং হিজাব‑নিকাব জোরপূর্বক খুলে ফেলা অন্তর্ভুক্ত। জুবাইর জানান, এই ধরনের ঘটনার ফলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ইলেকশন কমিশনকে জানিয়ে চলেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্ধেক ভোটার নারী, তাই তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকার ও ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব। নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত না হলে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়বে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। বিএনপি ও জামাতের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।
অধিকন্তু, জুবাইর উল্লেখ করেন যে, জামাতের নারী কর্মীরা ঘরে ঘরে ক্যাম্পেইন চালিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন, তবে তাদের ওপর ধারাবাহিক হুমকি ও আক্রমণ তাদের কাজকে কঠিন করে তুলছে। তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, এমন পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান করে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে।
বিএনপি দল ইলেকশন কমিশনকে ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানায়, তবে জামাতের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলোকে অস্বীকার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের এই পারস্পরিক অভিযোগ ও প্রত্যাখ্যান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে, যা নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত পদক্ষেপকে প্রভাবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, জামাতের সহকারী সচিব জুবাইর বিএনপির ‘শান্তি কমিটি’ অভিযোগকে অস্বীকার করে তা ‘অসুস্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও ইলেকশন কমিশনের দায়িত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে, বিএনপি দল ইলেকশন কমিশনকে এই বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে।



