গাজীপুর-২ (জেলা শহর ও টঙ্গি) আসনে এনসিপিআই প্রার্থী আলী নাসের খানকে গাড়ি চেপে প্রাণঘাতী আক্রমণের অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়েছে। একই ঘটনার ফলে এনসিপিআই জেলার সদস্যসচিব আল আমিন আহত হয়েছেন। অভিযোগটি এনসিপিআই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. তরিকুল ইসলাম রোববার সকালে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তা তদন্তের আওতায় থাকবে। তদন্ত চলাকালীন আলী নাসের খানকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে; গনম্যান ও পুলিশ ইতিমধ্যে তার সঙ্গে রয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে আরও নিরাপত্তা কর্মী যুক্ত করা হবে।
অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা প্রায় সাতটায় জামাত নেতৃত্বাধীন ১১‑দলীয় জোটের শাপলা কলি মার্কেটের সমর্থনে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ী এলাকায় মূল সড়কে পৌঁছালে, ধানাশীশের প্রার্থীর প্রচারণা মাইক্রোফোন বহনকারী অটোরিকশা শোভাযাত্রার গতি বাধা দেয় এবং উচ্চস্বরে মাইক চালু রাখে।
শোভাযাত্রার অংশগ্রহণকারীরা মাইক্রোফোন সরাতে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তা না করে, উসকানিমূলক আচরণ চালিয়ে যায়। এরপর দুইজন ব্যক্তি ধানাশীশের স্টিকারযুক্ত একটি প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করে আলী নাসের খান ও তার সঙ্গীদের দিকে গতি বাড়িয়ে গাড়ি চেপে আক্রমণ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জনপ্রিয়তা না থাকায় ভাইরাল হতেই এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন এনসিপিআই প্রার্থী।” তিনি জানান, তিনি একটি প্রোগ্রাম শেষ করে পোড়াবাড়ি বাজারের পথে ফিরে আসছিলেন; পথে কিছু লোক নামাজ পড়ছিল এবং তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন করেন। নামাজ শেষ হওয়ার পর এনসিপিআই প্রার্থী আলী নাসের খান তাঁদের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ সাক্ষাৎ করেন, তবে কোনো হুমকি বা গাড়ি চেপে আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।
বিএনপি প্রার্থীর মন্তব্যের পরেও রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেন। তদন্তের ফলাফল জানার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার ফলে গাজীপুরে নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উভয় দলই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্বার তুলে ধরেছে এবং ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের হিংসা বা হুমকি না ঘটার জন্য সকল প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, রিটার্নিং অফিসের কাছে দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এনসিপিআই প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল করিমের মন্তব্যে দেখা যায়, উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
অধিকন্তু, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। এই প্রক্রিয়ায় উভয় দলের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজীপুরে নির্বাচনী সময়কালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গনম্যান, পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটার জন্য সকল প্রার্থী ও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।



