যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তির খসড়া ও সংক্ষিপ্তসার ইতিমধ্যে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তা ভিত্তিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চুক্তির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে শুল্ক হারের হ্রাস এবং বোয়িং বিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে মার্কিন সরকার বাংলাদেশে আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের হার ২০ শতাংশ। যদিও একই হার অন্যান্য দেশে প্রযোজ্য, তবে বাংলাদেশে এই হার কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শুল্ক হার চূড়ান্ত করার জন্য মার্কিন সরকারকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নিতে পারে। গত আগস্টে মার্কিন সরকার ২০ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কার্যকর করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
বাংলাদেশ সরকার শুল্ক হারের অতিরিক্ত হ্রাস এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা পণ্যের জন্য কিউমুলেশন সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে কাজ করছে। কিউমুলেশন সুবিধা পেলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
বোয়িং বিমান ক্রয়ের প্রশ্নে সচিব জানান, বিমান বহরের সক্ষমতা বাড়াতে এই ক্রয় আলোচনায় রয়েছে। দাম, সরবরাহের সময়সূচি ও কনফিগারেশন নিয়ে নেগোশিয়েশন চলছে, তবে চুক্তির আওতায় কোনো যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত নয়। সামরিক সরঞ্জাম কখনোই বাণিজ্যিক আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
সম্প্রতি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। তৈরি পোশাক খাতে ৪৫ বছরের বেশি সময়ে অর্জিত সক্ষমতা রাতারাতি হ্রাস করা সম্ভব নয়। ভারত কাঁচামালের বড় উৎস এবং বেসিক টেক্সটাইলে শক্তিশালী, তাই তা প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশ সরকার এফটিএ সম্পর্কিত আলোচনায় জাপানের সঙ্গে সমাপ্তি ঘটিয়ে আগামী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাপানের সঙ্গে সকল আলোচনা শেষ হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
বাণিজ্য সচিবের মতে, এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রবাহ সহজ হবে, শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি খরচ কমবে এবং বিমান ক্রয়ের মাধ্যমে এয়ারলাইন সেক্টরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে, কিউমুলেশন সুবিধা পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে বাণিজ্যিক বৈচিত্র্য বাড়াতে, শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে এবং কৌশলগত সম্পদ ক্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয়। এই দিকগুলোতে সফলতা পেলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত চুক্তি যদি প্রত্যাশিত শর্তে সম্পন্ন হয়, তবে তা বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। তবে শুল্ক হারের চূড়ান্ত নির্ধারণে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলবে, যা পরবর্তী আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।



