প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জড়িত করে জেফ্রি এপস্টিনের নতুন ইমেইলগুলোকে ভারত সরকার শূন্য বলে খারিজ করেছে। ইমেইলগুলোতে মোদী ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে করা মন্তব্যগুলোকে অযৌক্তিক ও গুজবপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রত্যাখ্যানের ভিত্তি হল মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিশাল নথি সংগ্রহের অংশ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবারে একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, ইমেইলগুলোতে মোদী ও দেশের কূটনৈতিক নীতি সম্পর্কে করা যে কোনো দাবি এক দণ্ডিত অপরাধীর অশোভন প্রচেষ্টা। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, এসব মন্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
মার্কিন সরকার শুক্রবার এপস্টিনের তদন্তের অংশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করে, যার মধ্যে এই ইমেইলগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই ডকুমেন্টগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি হয়।
হিন্দু ভাষায় প্রকাশিত একটি ভারতীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টিনের ইমেইলগুলোতে মোদী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ইমেইলগুলোতে ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানির নামও উঠে এসেছে। এই তথ্যগুলো দেশীয় রাজনৈতিক আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে।
একটি ইমেইলে এপস্টিন দাবি করেন যে, জুলাই ২০১৭-এ মোদীর ইসরায়েল সফরটি তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছাড়া সম্ভব হতো না। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সফরটি মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এই দাবি সরকারকে অস্বীকার করতে বাধ্য করেছে।
ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফরটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসারে একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ছিল। কোনো বিদেশি পরামর্শের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য করা হয়েছিল।
এপস্টিনের ইমেইল বিষয়ক মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক পরিসরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে দাবি জানাচ্ছে।
কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ইমেইলগুলোর বিষয়বস্তুকে ‘বিব্রতকর ও লজ্জাজনক’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি সরকারকে এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা না করে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানান। তার মন্তব্যে বিরোধী দলগুলোর উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে।
কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা ২৪ মে ২০১৯ তারিখের দুটি ইমেইল সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। ঐ দিনটি মোদী দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার দিন ছিল। ইমেইলে এপস্টিন দাবি করেন যে, তিনি মোদীকে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে সক্ষম হবেন।
মার্কিন সরকার প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এপস্টিনের ইমেইলে অনিল আম্বানির নামও উল্লেখ রয়েছে। তবে সেই অংশের পূর্ণ বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই বিতর্কের ফলে মোদীর আন্তর্জাতিক চিত্র ও দেশীয় জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। বিরোধী দলগুলো এই বিষয়টি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। সরকার পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও লিক বা নথি প্রকাশের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি নজরে রাখা হবে।



