রামপুরা, ঢাকা-তে রবিবার তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বিটিভি (বঙ্গালাদেশ টেলিভিশন) পরিদর্শনের সময় চ্যানেলকে ১৮ কোটি মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হতে হবে বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বৃহত্তম টেলিভিশন নেটওয়ার্ক হিসেবে বিটিভির ওপর জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, জনমত ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিটিভির সব প্রোগ্রাম পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন করা জরুরি, তবে বর্তমান পর্যন্ত তা সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি। তিনি এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে তিনি বিটিভির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করেন। কোনো দলীয় পক্ষপাতিত্ব না করে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত, তা না হলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিটিভি বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, দর্শকের পরিবর্তিত চাহিদা মাথায় রেখে সংবাদ ও বিনোদন প্রোগ্রামগুলোতে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা দরকার, যাতে চ্যানেলটি সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
চ্যানেলের কর্মী ঘাটতি পূরণে পদভরণ দ্রুততর করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। শূন্য পদগুলো পূরণ না হলে প্রোগ্রাম উৎপাদন ও সম্প্রচারে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে দর্শকের সন্তুষ্টি কমে যায়।
বিটিভি শুধুমাত্র একটি টেলিভিশন চ্যানেল নয়, এটি দেশের ইতিহাসের সাক্ষী এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। রিজওয়ানা হাসান এটিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে, আধুনিক কাঠামো ও প্রযুক্তি দিয়ে পুনর্গঠন করার আহ্বান জানান।
বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা সময়মতো বাস্তবায়নকে তিনি অগ্রাধিকার দেন। সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া চ্যানেলের উন্নয়ন ধীরগতি পাবে, তাই পরিকল্পিত খরচের সঠিক বরাদ্দ জরুরি।
কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সকল স্তরের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার পরামর্শ রিজওয়ানা হাসান দেন। পাশাপাশি, পরবর্তী সরকারের জন্য একটি স্মার্ট চার্টার অব ডিমান্ড প্রস্তুত করে রাখার সুপারিশ করেন, যাতে নীতি ও পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা যায়।
বিটিভির মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান পরিদর্শনের সময় বিটিভির নিউজরুম, স্টুডিও, কন্ট্রোল প্যানেল ও লাইব্রেরি সহ বিভিন্ন বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দেখেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও কর্মপরিবেশে উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
মাহবুবুল আলম উল্লেখ করেন, বিটিভি সময়ের চাহিদা মেটাতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া উইং চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই নতুন বিভাগে সময়োপযোগী কন্টেন্ট তৈরির জন্য জনবলের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিকভাবে তরুণদের যুক্ত করা হবে, যা দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকে সহজ করবে।
বিটিভির এই রূপান্তর পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ মিডিয়া হিসেবে বিটিভি যদি সফলভাবে নিজেকে আধুনিকায়ন করে, তবে তা ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি ও মত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে, জনসাধারণের বিশ্বাস বাড়লে সরকারী নীতি ও কর্মসূচির প্রতি স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।



