ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর এলাকায় রবিবার দুপুর দুইটার কাছাকাছি এক মায়ের মৃত্যু ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, ৬৩ বছর বয়সী শেফালি বেগমকে তার মাদকাসক্ত পুত্র সাগর খান গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে মৃতদেহ পাওয়া যাওয়ার পর তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু হয়।
শেফালি বেগম ছিলেন মো. আলী খানের স্ত্রী এবং স্থানীয় সমাজে পরিচিত এক গৃহিণী। তার মৃত্যুর সময় দেহে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে মর্গে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। মৃতদেহটি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সাগর খান, ৩৬ বছর বয়সী, শেফালির একমাত্র সন্তান। পরিবার জানায়, সাগর আগে থেকেই মাদকের প্রতি আসক্তি দেখিয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক অস্থিরতার শিকার হয়েছেন। তার বিবাহের পর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের মতে, সাগর প্রথমে প্রেমের ভিত্তিতে বিয়ে করেন, তবে স্ত্রীর অন্যের সঙ্গে চলে যাওয়ার পর তার মানসিক অবস্থা ভেঙে যায়। তিনি যোগ করেন, মাদকের প্রভাবের মধ্যে সাগর তার মাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয় থানা অফিসার বেলায়েত হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে মাদকের আসক্তি এবং মানসিক অস্থিরতা মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সাগর হত্যার পর থেকে পলায়ন করেছে এবং এখনো গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশের মতে, সাগরকে অনুসন্ধান করার জন্য দল গঠন করা হয়েছে এবং তার সম্ভাব্য গন্তব্যস্থল নির্ণয়ের জন্য স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদুপরি, তার পরিচিতদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান।
মৃতদেহের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত শারীরিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক রিপোর্টে গুলির ক্যালিবার এবং গুলি করার দিকনির্দেশনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, শেফালির হত্যার জন্য সাগরকে হত্যা ও অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তদন্ত চলাকালীন তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অপরাধের সম্ভাবনা থাকলে তা অনুসন্ধান করা হবে।
ঝালকাঠি জেলার পুলিশ বিভাগ এই ধরনের গৃহহত্যা প্রতিরোধে মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও সামাজিক কর্মীকে মাদকাসক্তদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রের তথ্য প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সমাজে শেফালির মৃত্যুর শোক ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিবেশীরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতি সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় নেতারা একত্রিত হয়ে আলোচনা সভার আহ্বান জানিয়েছেন।
গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের ঘটনা এলাকায় প্রথম নয় এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও সাগরের গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে, শেফালির পরিবার দুঃখে মূর্ছিত, আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে মনোনিবেশ করেছে।



