অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে স্প্যানিশ তরুণ ক্যার্লোস আলকারাজ ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ স্কোরে ৩৮ বছর বয়সী নোভাক জোকারভিচকে পরাজিত করে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম সম্পন্ন করেন। ম্যাচটি মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হয় এবং টেনিস জগতের দুই শীর্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে চার ঘণ্টা অধিক সময়ের তীব্র লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। আলকারাজের জয় তাকে ২২ বছর বয়সে সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদা এনে দেয়, যা রাফায়েল নাদালের পূর্বের রেকর্ডকে অতিক্রম করে।
জোকারভিচ প্রথম সেটে দ্রুত শুরুর সুবিধা নিয়ে ৩৩ মিনিটের মধ্যে ৬-২ গেমে জয়লাভ করেন, যা তাকে গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড়ের শিরোপা যোগ করার পথে এগিয়ে রাখে। তবে আলকারাজ তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দ্বিতীয় সেটে ৩৬ মিনিটে ৬-২ গেমে সমতা ফিরিয়ে নেন, ফলে ম্যাচের গতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।
তৃতীয় সেটে আলকারাজের আক্রমণাত্মক খেলা স্পষ্ট হয়ে ওঠে; তিনি ৫১ মিনিটের দীর্ঘ সেটে ৬-৩ গেমে জয়লাভ করেন, যদিও দুজনই বেশ কয়েকটি ব্রেক পয়েন্ট তৈরি করতে সক্ষম হন। জোকারভিচ শেষ গেমে চারটি ব্রেক পয়েন্ট রক্ষা করতে পারলেও সেটের ফলাফল বদলাতে পারেননি।
চতুর্থ এবং শেষ সেটটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়, মোট ১ ঘণ্টা ২ মিনিট স্থায়ী হয়। এই সেটে উভয় খেলোয়াড়ই একে অপরের সার্ভিস ভাঙতে সংগ্রাম করেন, এবং প্রথম গেমে কোনো ব্রেক পয়েন্টই ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত আলকারাজ ৭-৫ গেমে সেট জয় করে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটান এবং প্রথমবার নরম্যান ব্রুকস কাপ হাতে নেন।
এই জয় আলকারাজের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত, কারণ তিনি ইতিমধ্যে ইউএস ওপেন, উইম্বলডন এবং ফ্রেঞ্চ ওপেন প্রত্যেকটি দুবার করে জিতেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বিজয় তার তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা যোগ করে, ফলে তিনি ক্যারিয়ার স্লাম সম্পন্ন করেন। তার বয়স ২২ বছর, যা তাকে সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ ক্যারিয়ার স্লাম বিজয়ী করে তুলেছে।
অন্যদিকে জোকারভিচের লক্ষ্য ছিল গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার সংখ্যা সর্বোচ্চে নিয়ে যাওয়া, যা তাকে রোজার ওয়াল্ডফেরের রেকর্ড ভাঙতে সাহায্য করত। তবে এই পরাজয় তার ১০তম শিরোপা অর্জনের স্বপ্নকে থামিয়ে দেয় এবং রেকর্ড ভাঙার সুযোগ হারায়। জোকারভিচের বয়স ৩৮ বছর, যা তাকে রোজার ওয়াল্ডফের সর্বোচ্চ বয়সে শিরোপা জয়ের রেকর্ডের কাছাকাছি নিয়ে আসে, তবে শেষ পর্যন্ত তা অর্জন করতে পারেননি।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় যে আলকারাজ মোট চারটি সেটে ২১ গেম জিতেছেন, যেখানে জোকারভিচ ১৪ গেমে সীমাবদ্ধ ছিলেন। তাছাড়া আলকারাজের সার্ভিস গেমে উচ্চ সফলতা এবং রিটার্নে ধারাবাহিকতা তাকে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী করে তুলেছে।
আলকারাজের কোচ টিমের মন্তব্যে দেখা যায় যে খেলোয়াড়ের শারীরিক প্রস্তুতি এবং মানসিক দৃঢ়তা এই জয়ের মূল কারণ। তিনি বলেছিলেন যে মেলবোর্নের কঠিন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারা এবং প্রতিপক্ষের শক্তি বিশ্লেষণ করে কৌশল পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জোকারভিচের দলও ম্যাচের পর তার পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ করে বলেছে যে প্রথম দুই সেটে জয় পাওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারা যায়নি, যা শেষ পর্যন্ত তার হারে প্রভাব ফেলেছে।
পরবর্তী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ ডাবলস ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আলকারাজের জোড়া অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া জোকারভিচের পরবর্তী টুর্নামেন্ট হিসেবে ইউএস ওপেনের প্রস্তুতি শুরু হবে, যেখানে তিনি পুনরায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য রাখবেন।
এই বিজয় টেনিস জগতে নতুন তরুণের উত্থানকে চিহ্নিত করে, এবং আলকারাজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ভবিষ্যতের শীর্ষ খেলোয়াড়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। তার ক্যারিয়ার স্লাম সম্পন্ন হওয়া টেনিসের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা ভবিষ্যতে আরও নতুন রেকর্ডের সূচনা করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল আলকারাজের জন্য একটি স্মরণীয় বিজয়, যেখানে তিনি শারীরিক শক্তি, কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা এবং মানসিক স্থিতিশীলতা একত্রে প্রদর্শন করে জোকারভিচকে পরাজিত করেন। এই জয় তার ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং টেনিসের বিশ্বে তার অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।



