রোববার (১ জানুয়ারি) সরকারী সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে সাংবাদিকদের আলোচনায় জানানো হয় যে, ৯ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পণ্য প্রবেশের বর্তমান শুল্ক হার কমে যাবে, যা রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং এয়ারক্রাফ্ট ক্রয়ের বিষয়ে দাম, সরবরাহ শর্ত এবং পেমেন্ট কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই চুক্তির আওতায় কোনো যুদ্ধবিমান ক্রয় অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে বাণিজ্যিক ও নাগরিক বিমান প্রকল্পে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হবে।
বাণিজ্য সচিব উল্লেখ করেন যে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো উদ্বেগ নেই। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে এবং শুল্ক সুবিধা পাওয়া অন্যান্য দেশগুলোর সাথেও সমজাতীয় চুক্তি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
মাহবুবুর রহমানের মতে, ৬ তারিখে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দু’দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহকে ত্বরান্বিত করবে।
এই ধারাবাহিক চুক্তি ও আলোচনার ফলে রপ্তানি পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়বে এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, জুতা এবং কৃষি পণ্যের রপ্তানিতে শুল্ক হ্রাসের সরাসরি প্রভাব প্রত্যাশিত।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, শুল্ক হ্রাস এবং নতুন এফটিএ চুক্তিগুলি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হবে, তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নীতি সামঞ্জস্য এবং গুণগত মানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।



