বিদেশী উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ ঢাকার এক হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দিনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সমাপ্তির দিনে উল্লেখ করেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের বেশি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি এই মন্তব্যটি মিডিয়া প্রশ্নের জবাবে প্রদান করেন, যা ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (DCAB) ও MRDI যৌথভাবে আয়োজন করেছে।
প্রশিক্ষণটি দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোটার সচেতনতা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়। তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের ভিত্তি হল ১৯৯১ সালের প্রথম বহুদলীয় নির্বাচনের ৫৫ শতাংশ উপস্থিতি, যা থেকে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি তুলনা করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তা কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এমন উদ্বেগ প্রতিটি নির্বাচনের আগে থেকেই বিদ্যমান এবং সরকার অতীতেও এ ধরনের ঝুঁকি হ্রাসে কাজ করেছে।
দেশের নির্বাচনগুলো ঐতিহাসিকভাবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ, যেখানে দলীয় আনুষ্ঠানিকভাবে সহিংসতা উস্কে না দিলেও ব্যক্তিগত স্তরে কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। তৌহিদ হোসেনের মতে, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়; প্রতিটি নির্বাচনে স্বল্পমাপের অশান্তি দেখা যায় এবং সরকার তা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
প্রশিক্ষণ সমাপনী সেশনে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারাভিযানগুলোতে তথ্যভিত্তিক ও অতথ্যভিত্তিক উভয় ধরনের ক্যাম্পেইন চলছে। কিছু গোষ্ঠী সরকারকে বিরোধিতা করে, অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছে।
ভোটাররা শর্তাবলী পর্যালোচনা করে নিজের সিদ্ধান্ত নেবে, তবে বাস্তবে অধিকাংশ ভোটার দলীয় লাইন অনুসরণ করবে বলে তিনি অনুমান করেন। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, ফলে বড় কোনো অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্ভাবনা কম বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রত্যেক নির্বাচনে কিছু অংশগ্রহণকারী ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়; এইবারেও তা ঘটতে পারে। তৌহিদ হোসেন স্বীকার করেন, তিনি জানেন না এইবারের অনুপস্থিতি (অ্যাবস্টেনশন) পূর্বের তুলনায় বেশি হবে কিনা। তবে তিনি আশাবাদী যে, ১৯৯১ সালের ৫৫ শতাংশের তুলনায় এইবারের উপস্থিতি উচ্চতর হবে।
উচ্চতর ভোটার উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে, এ বিষয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন। অধিক অংশগ্রহণের ফলে সরকারকে জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী নীতি নির্ধারণে আরও শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাওয়া যাবে।
এদিকে, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধান বাড়ানো, ভোটার তালিকা আপডেট ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে।
তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ভোটার উপস্থিতি যদি ৫৫ শতাংশের উপরে যায়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং পরবর্তী সরকার গঠনে স্পষ্ট ম্যান্ডেট প্রদান করবে।
অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও সহিংসতা রোধে গৃহীত সকল ব্যবস্থা একত্রে কাজ করবে, যাতে নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনের তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায় সকল রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায় এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।



