21 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসরাইল উপজেলার ছয়জন বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানার প্রচারে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত

সরাইল উপজেলার ছয়জন বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানার প্রচারে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে রুমিন ফারহানা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের কারণে সরাইল উপজেলার বিএনপি শাখা ছয়জন নেতাকে দলীয় পদ থেকে বাদ দিয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি বুধবার রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয় এবং একই দিনে ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।

বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছে সাবেক সহসভাপতি আফজাল হোসেন, সাবেক সদস্য উসমান খান, অরুয়াইল ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মনোয়ার হোসেন, সরাইল সদর ইউনিয়নের সদস্য জাকির হোসেন ও মুকুল হোসেন, এবং কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদ। তাদের সব স্তরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপের পেছনে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংগঠনবিরোধী কাজের দমনই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু থেকেই এই নেতারা রুমিন ফারহানার নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

মামুন অর রশিদ, যিনি কালীকচ্ছ ইউনিয়ন শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রথম আলোকে জানান, “অনেকদিন নীরবে রুমিনের নির্বাচনী কাজ করতাম, এখন প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছি। দলকে ভালোবাসি, তাই যোগ্য প্রার্থীর সঙ্গে আছি। আমরা যোগ্য প্রার্থীর সংসদে পাঠাতে চাই।” একইভাবে, জেলা বিএনপি সহসভাপতি ও সরাইল উপজেলা সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুরও মন্তব্য করেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এখনো কোনো লিখিত নোটিশ পাইনি। দলীয় শৃঙ্খলা না মানলে আমরা পদক্ষেপ নেব।”

রুমিন ফারহানা, যিনি একসময় বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লিপিবদ্ধ হয়েছেন। স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ফলে তাকে দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। তার এই পদক্ষেপের পর তিনি এখন স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সরাইল উপজেলার এই বহিষ্কারের পূর্বে, একই কারণে গত বুধবার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন শাখার ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থগিত করা হয়। তদুপরি, গত মঙ্গলবার উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন শাখা সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিএনপি স্থানীয় স্তরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে যুক্ত নেতাদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দলীয় একতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে চাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের বহিষ্কার নির্বাচনী গতি পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে রুমিনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে ভোটারদের সমর্থন সংগ্রহের ক্ষেত্রে।

ভবিষ্যতে, রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ফলে তার ভোটভাগের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে। একই সঙ্গে, বহিষ্কৃত নেতারা স্থানীয় স্তরে তাদের প্রভাব হারিয়ে ফেলতে পারে, যা বিএনপির আসন সংগ্রহের কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী সদস্যদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং নির্বাচনী সময়ে কোনো সংগঠনবিরোধী কাজের অনুমতি থাকবে না। এই নীতি অনুসরণে স্থানীয় শাখাগুলোকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের সব পর্যায়ের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পুনরায় দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই। এই সিদ্ধান্তের পর দলীয় কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন সদস্যদের নিয়োগের কাজ দ্রুততর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরাইল উপজেলার এই ঘটনা নির্বাচনী মরসুমে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে এবং রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে নির্বাচনী যাত্রা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments