ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস আজ ঢাকা জামুনা স্টেট গেস্ট হাউসে ইউরোপীয় চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম) এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সৌজন্য সফরের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) আলোচনার ত্বরান্বিত সূচনা করার দাবি জানিয়ে দেশের বর্তমান ডিউটি‑ফ্রি প্রবেশাধিকার শেষ হওয়ার পরেও বাণিজ্যিক সুবিধা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
লোপেজ উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ লিডেস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি (এলডিসি) ক্যাটেগরি থেকে স্নাতক হওয়ার পর বিদ্যমান বাণিজ্যিক সুবিধা হারাবে, তাই এফটিএ আলোচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।
লোপেজ আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমানে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, আর ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে এফটিএ সম্পন্ন করে ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এই উদাহরণগুলোকে ভিত্তি করে তিনি বলছেন, বাংলাদেশকে একই পথে অগ্রসর হতে হবে।
ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন লোপেজ জানান, তিনি ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করবেন এবং এফটিএ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য রাজনৈতিক সমর্থন সংগ্রহ করবেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের প্রতিক্রিয়ায় তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে ৭,৩০০টিরও বেশি পণ্যের জন্য ডিউটি‑ফ্রি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
ইপিএকে তিনি দেশের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সমান ধরনের চুক্তি করার আশার সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে প্রস্তুত পোশাক শিল্পের জন্য ডিউটি‑ফ্রি প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে এফটিএ আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত মাইকেল মিলার উল্লেখ করেন, স্নাতক হওয়ার পর বাণিজ্যিক সম্পর্কের কাঠামো পরিবর্তিত হবে, তবে এই পরিবর্তন ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, এই সময়সীমা বিবেচনা করে উভয় পক্ষকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
মিলার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ২ কোটি মানুষের বাজারে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত এবং বাংলাদেশকে এই সুযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৬ সালে একটি ইউরো‑বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে উভয় দেশের ব্যবসায়িক নেতারা সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন।
দূত মিলার আরও যোগ করেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রাথমিক রাজনৈতিক সংকেত পাওয়া গেলে এফটিএ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের এফটিএ ত্বরান্বিত করার আহ্বান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তুতিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



