যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিক ২০১২ সালে তার স্ত্রী ও চার সন্তানসহ জেফ্রি এপস্টেইনের মালিকানাধীন লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, তা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে। লুটনিকের পরিবার এবং অন্য একটি পরিবার একসাথে দ্বীপে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যেখানে ছয়টি ছেলে ও দুইটি মেয়ে ছিল। এই তথ্যগুলো লুটনিকের ২০০৫ সালের একটি প্রকাশের সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ, যেখানে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে আর কখনো ঘনিষ্ঠভাবে না থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বিচার বিভাগ গত শুক্রবার এপস্টেইনের মামলায় সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশ করে, যা গত বছর আইনগতভাবে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরোপের পর সর্ববৃহৎ ডকুমেন্ট শেয়ারিং হিসেবে চিহ্নিত। এই নথিগুলোর মধ্যে লুটনিকের ইমেইলগুলোও অন্তর্ভুক্ত, যা তার ভ্রমণ পরিকল্পনার বিশদ তুলে ধরে।
ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, লুটনিকের স্ত্রী অ্যালিসন এপস্টেইনের সহকারীকে জানিয়েছিলেন যে তারা ক্যানেল বে থেকে সকালবেলা রওনা হবে এবং দু’টি পরিবার মোট আটজন শিশুর সঙ্গে ভ্রমণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে শিশুর বয়স সাত থেকে ষোলো বছরের মধ্যে, এবং তারা দ্বীপে দুপুরের খাবার ভাগাভাগি করতে আগ্রহী।
লুটনিক নিজেও এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছিলেন যে তারা শনি-রবিবারে সেন্ট থমাসে অবতরণ করবে এবং পরের দিন সেন্ট বার্টস বা অ্যাঙ্গুইলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ডিনারের সময়সূচি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে রবিবার সন্ধ্যায় খাবার মিলবে কিনা তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।
অতিরিক্ত ইমেইলে লুটনিক তার নৌকায় চালকের জন্য নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং পয়েন্টের তথ্য চেয়েছিলেন এবং উল্লেখ করেন যে অন্য একটি পরিবারও তাদের সঙ্গে থাকবে। একই সময়ে তিনি দ্বীপে দুপুরের খাবারের জন্য এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
২৪ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখের একটি ইমেইলে লুটনিককে একটি অজানা প্রেরক থেকে এপস্টেইনের পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পৌঁছায়, যেখানে বলা হয়েছে “আপনার সঙ্গে দেখা করে ভালো লাগল”। এই বার্তা ইঙ্গিত দেয় যে লুটনিকের এপস্টেইনের সঙ্গে অন্তত একবারের সাক্ষাৎ ঘটেছে।
লুটনিক ২০০৫ সালে একবার প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ঘরে আর কখনো প্রবেশ করবেন না, তবে এই ইমেইলগুলো তার পূর্বের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসঙ্গতি প্রকাশ করে। তার এই বক্তব্যের পর থেকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করছিলেন, কিন্তু নতুন নথি তা অস্বীকার করে।
বাণিজ্য বিভাগের মুখপাত্র এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে জানান যে লুটনিকের এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অবৈধ কাজের অভিযোগ নেই এবং তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নয়। তবে নথিগুলো প্রকাশের পর থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনমত গোষ্ঠী লুটনিকের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
এই প্রকাশনা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লুটনিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। সরকারী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ডের ওপর বাড়তি দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে কঠোর নিয়মের আহ্বান বাড়াতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইমেইলগুলো লুটনিকের পরিবারসহ এপস্টেইনের দ্বীপে ভ্রমণের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে এবং তার পূর্বের প্রকাশের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে। যদিও কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও, এই তথ্যের প্রকাশ রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



