21 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামির শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে নারীবিদ্বেষের অভিযোগে হ্যাক দাবি, বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে

জামায়াত-এ-ইসলামির শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে নারীবিদ্বেষের অভিযোগে হ্যাক দাবি, বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে

শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমিরের ভেরিফায়েড এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি নারীবিদ্বেষী পোস্টের পর দলটি হ্যাকের অভিযোগ জানায়, তবে বিরোধী দল বিএনপি সময়সীমা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় শফিকুরের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হলে শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে, এমন বক্তব্যকে নোংরা ও জঘন্য ভাষা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে নারীর নেতৃত্ব ও কর্মজীবী নারীদের সমালোচনা তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রায় নয় ঘণ্টা পর, রাত একটায় শফিকুরের এক্স অ্যাকাউন্টে হ্যাকের অভিযোগ উঠে। জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, “প্রায় নয় ঘণ্টা পর হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, তা প্রশ্নবিদ্ধ।” তিনি হ্যাকের সময় ও পোস্টের প্রকাশের মধ্যে সংযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

হাতিরঝিল থানায় রাতের দিকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন সিরাজুল ইসলাম, যিনি জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং ছাত্রশিবিরের প্রাক্তন সভাপতি। ডায়েরিতে শফিকুরের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে ওই পোস্টটি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

রাত ১২:৪০ মিনিটে জামায়াত-এ-ইসলামির একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, হ্যাকাররা সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করে সাময়িকভাবে আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তবে দলের সাইবার টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “হ্যাকটি অল্প সময়ের মধ্যে সনাক্ত ও মোকাবেলা করা হয়েছে।”

মাহদী আমিন দলীয় অবস্থান থেকে জানান, “শফিকুরের এক্স পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা সমাজকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেয় এমন প্রচেষ্টা বলে আমরা মনে করি।” তিনি পোস্টের মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তুলে ধরেন, যেখানে নারীদের আধুনিকতার নামে ঘরে থেকে বের করা হলে শোষণ ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে, তা প্রোস্টিটিউশন সমতুল্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

কয়েক দিন আগে আল জাজিরার সঙ্গে শফিকুরের এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের দলের শীর্ষ পদে কখনো কোনো নারী থাকতে পারবে না, কারণ আল্লাহ নারীদের নেতৃত্বের জন্য তৈরি করেননি।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মাহদী আমিন আবার দলীয় নীতি ও নারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিএনপি পক্ষের মন্তব্যে হ্যাকের সময়সীমা ও পোস্টের প্রকাশের মধ্যে অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। তারা দাবি করেন, হ্যাকের অভিযোগ পোস্টের প্রকাশের পরই উঠে এসেছে, যা হ্যাকের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে। তবে জামায়াত-এ-ইসলামি দল এখনও হ্যাকের বিষয়টি তদন্তের দাবি করে এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শফিকুরের পোস্টের বিষয়বস্তু ও হ্যাকের অভিযোগ উভয়ই নারীর অধিকার ও দলীয় নীতির মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সময় পার্টির ইমেজকে প্রভাবিত করতে পারে। উভয় দলই বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে, এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, হ্যাকের অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে। জামায়াত-এ-ইসলামি দল হ্যাকের দায় হ্যাকারদের উপর আরোপ করে, আর বিএনপি সময়সীমা ও প্রমাণের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। উভয় পক্ষই জনমত গঠন ও ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপের দাবি করছে।

এই বিতর্কের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জামায়াত-এ-ইসলামি সাইবার টিমের তদন্তের ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে, এবং বিএনপি সম্ভবত হ্যাকের বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করতে পারে। উভয় দলই নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব স্বীকার করে, তবে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে তা সামঞ্জস্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments