লস এঞ্জেলেস ২০২৮ গেমসের প্রধান কর্মকর্তা কেইসি ওয়াসারম্যান গত শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখিত ২০০৩ সালের ইমেইল বিনিময়ের জন্য গভীর অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এই যোগাযোগগুলো দুই দশক আগে ঘটেছে, যখন গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের অপরাধজনিত কর্মকাণ্ড এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই ইমেইলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ (DOJ) শিকাগোতে প্রকাশিত ফাইলের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ ডকুমেন্টের সঙ্গে ওয়াসারম্যানের ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ব্যক্তিগত বার্তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফাইলগুলো শুক্রবার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, ফলে এই পুরোনো যোগাযোগগুলো আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়ায়।
একটি বার্তায় ওয়াসারম্যান ম্যাক্সওয়েলকে “আমি সব সময় তোমার কথা ভাবি” বলে উল্লেখ করেন এবং তাকে একটি টাইট লেদার পোশাক পরিধান করে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই ধরনের ফ্লার্টি টোনের কথোপকথনগুলো ইমেইল চেইনের মধ্যে দেখা যায়, যা প্রকাশের পর মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ডে রয়েছে, যেখানে তাকে জেফ্রি এপস্টেইনের জন্য কিশোরী মেয়েদের নিয়োগ ও মানবিক পাচার করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যাওয়ার আগে তার অপরাধগুলো ব্যাপকভাবে প্রকাশ পায়।
ওয়াসারম্যানের প্রকাশ্য বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে দুই দশক আগে যে চিঠিপত্র বিনিময় করেছি, তা নিয়ে আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই যোগাযোগগুলো ঘটার সময় ম্যাক্সওয়েলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জনসাধারণের জানার বাইরে ছিল।
ওয়াসারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, তিনি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখেননি। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এপস্টেইনের সঙ্গে কখনো কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ে তোলিনি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পূর্বে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চেয়েছেন।
অধিকন্তু, ওয়াসারম্যান ২০০২ সালে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের একটি মানবিক মিশনে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি এপস্টেইনের মালিকানাধীন বিমানে ভ্রমণ করেন। তিনি বলেন, “আমি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে ২০০২ সালে একটি মানবিক সফরে অংশ নিয়েছিলাম, যা এপস্টেইনের বিমানে সম্পন্ন হয়েছিল।” এই তথ্যটি প্রকাশের পর অতিরিক্ত প্রশ্নের জন্ম দেয়।
ওয়াসারম্যান শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমি উভয় ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের সংযোগের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” তিনি এই অনুশোচনা প্রকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো ভুল ধারণা না গড়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।
প্রকাশিত নথিগুলোতে ওয়াসারম্যানের কোনো অবৈধ কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে এই তথ্যগুলো এপস্টেইন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাতের আহ্বান জানায়। মিডিয়া সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে, এই ফাইলগুলো প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা বাড়ছে।
বিবিএস ওয়াসারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে ওয়াসারম্যানের ভূমিকা ও অতীতের সংযোগগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
কেইসি ওয়াসারম্যান ২০০২ সালে একটি স্পোর্টস ও এন্টারটেইনমেন্ট এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি অলিম্পিকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি হিসেবে তালিকাভুক্ত। তার এই পেশাগত পটভূমি তাকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করেছে।
গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল সম্প্রতি কংগ্রেসের একটি কমিটিতে শপথের নিচে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সম্মতি জানিয়েছেন, যেখানে ফেডারেল সরকারের এপস্টেইন ফাইলের পরিচালনা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই কমিটি একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রীর, হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্যও আহ্বান করেছে।
বিল ক্লিনটন ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে এপস্টেইনের সঙ্গে ফটোগ্রাফে দেখা গেছেন, তবে তিনি কখনোই কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগে পড়েননি। এই বিষয়টি মিডিয়ায় আলোচিত হলেও, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্তের সূচনা হয়নি।
সারসংক্ষেপে, লস এঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিকের প্রধান কর্মকর্তা কেইসি ওয়াসারম্যানের গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে পুরোনো ফ্লার্টি ইমেইলগুলো প্রকাশের পর তিনি গভীর অনুতাপ প্রকাশ করেছেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সংযোগ না থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও তদন্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।



