কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় র্যাবের এক সমন্বিত অভিযান চালু হয়, যেখানে মোট বিশজন দালালকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের নেতৃত্বে দোষী সাব্যস্তদের জন্য শাস্তি নির্ধারিত হয়।
অভিযানটি রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি সকালবেলা র্যাব-১৪ সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। দালালদের অপরাধের মাত্রা ও স্বীকারোক্তি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন সাত দিন থেকে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মোবাইল আদালতের সমাপ্তি পর ম্যাজিস্ট্রেট জুবায় সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, অভিযুক্তরা স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে এবং তাদের অপরাধের গুরত্ব অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযানের সময় দালালরা র্যাবের সিভিল ফোর্সের সদস্যদের কাছেও অর্থ দাবি করেছিল, যা তাদের দীর্ঘদিনের অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ।
র্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, পাসপোর্ট অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন আনসার সদস্যের দালালদের সঙ্গে সংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এই বিষয়টি জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে জানানো হয়েছে এবং অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তদন্তের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের ফলে পাসপোর্ট অফিসে নাগরিকদের সেবা গ্রহণে সৃষ্ট অস্বস্তি কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। র্যাবের দৃষ্টিতে, দালালদের কার্যক্রমের অবসান নাগরিকদের সময় ও অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
ভবিষ্যৎ আদালত ও তদন্তের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট দালালদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলি যথাযথ প্রক্রিয়ায় চলবে এবং যেকোনো অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, দালালদের আর্থিক লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধান করে আরও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করা হবে।
র্যাবের এই অভিযানটি দেশের অন্যান্য পাসপোর্ট অফিসে অনুরূপ অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সতর্কতা জাগিয়ে তুলতে পারে। কর্তৃপক্ষের মতে, দালালদের নেটওয়ার্ক ভাঙা এবং জনসাধারণের সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
অভিযানের সময় র্যাবের সিভিল ফোর্সের সদস্যদের ওপর আর্থিক চাহিদা করা দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ চেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, কিশোরগঞ্জে র্যাবের এই সমন্বিত অভিযান দালালবাজারকে দমন করতে এবং নাগরিকদের পাসপোর্ট সেবা সহজতর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



