ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিথারামন ১ এপ্রিল শুরু হওয়া আর্থিক বছরের জন্য ২০২৬-২৭ বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যেখানে অবকাঠামো, রক্ষা ও কৌশলগত শিল্পে ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী এই বছর দেশের মোট দেশীয় উৎপাদন (জিডিপি) ৭.৪% বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০% শুল্কের প্রভাবের কারণে পরের বছর বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে যাবে।
বাজেটের মূল দিক হল আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে পরবর্তী বছরের জন্য ঘাটতি কমিয়ে আনা, যা সরকারী ব্যয় ও আয়ের পার্থক্যকে সংকুচিত করবে।
মূলধন ব্যয়ের লক্ষ্য ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক বছরে প্রায় ৯% বাড়িয়ে ১২.২ ট্রিলিয়ন রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববছরের ১১.১ ট্রিলিয়ন রুপির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
গ্লোবাল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রক্ষা খাতে ব্যয়ও ২০% এর বেশি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের নিরাপত্তা ও আধুনিকীকরণে জোর দেয়।
সরকার সাতটি কৌশলগত সেক্টরে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে; এদের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার, টেক্সটাইল এবং রেয়ার আর্থ অন্তর্ভুক্ত, যা বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতি এবং বিদেশি মূলধনের হ্রাসের মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।
রেয়ার আর্থ খাতের জন্য চারটি রাজ্যে বিশেষ করিডোর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; তামিলনাড়ু, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওডিশা এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত, যা স্থানীয় সম্পদ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করবে।
এই ঘোষণার পূর্বে নভেম্বর মাসে ৭৩ বিলিয়ন রুপি মূল্যের রেয়ার আর্থ স্কিম অনুমোদিত হয়েছিল, যা খনন, শোধন ও রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মিশন চালু করা হয়েছে, যার জন্য ৪৩৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে; এতে সরঞ্জাম, উপাদান এবং পূর্ণ-স্ট্যাক বৌদ্ধিক সম্পত্তি (আইপি) উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে।
ডেটা সেন্টার ক্ষেত্রে বিদেশি ক্লাউড কোম্পানিগুলোর জন্য ২০৪৭ সাল পর্যন্ত করমুক্তি প্রদান করা হবে, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক ডেটা সেবা প্রদানকারীদের আকৃষ্ট করবে।
এই করমুক্তি ও বিনিয়োগের সুবিধা ডেটা সেন্টার নির্মাণে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, ফলে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা ও ডেটা সংরক্ষণে দেশীয় চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে।
সারসংক্ষেপে, নতুন বাজেট অবকাঠামো, রক্ষা ও কৌশলগত শিল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রাখে, তবে আন্তর্জাতিক শুল্ক নীতির প্রভাব ও বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে।



