ঢাকা শহরের কামরাঙ্গীরচর এলাকায় শনিবার রাত প্রায় নয়টায় একটি চার বছর বয়সী মেয়ের ওপর যৌন নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় একজন কিশোর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশকে জানানো হয়।
মেয়ের আত্মীয়ের মতে, কিশোরটি পাশের ঘরের ভাড়াটে এবং লিপস্টিক দিয়ে মেয়েকে তার ঘরে ডাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। মেয়ের অভিভাবক ঘরে ঢুকে দরজা খুলে মেয়ের বর্ণনা শোনেন, যেখানে কিশোরটি যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেছে বলে জানানো হয়।
মেয়ের বর্ণনা শোনার পর স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা কিশোরকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেন এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরকে আটক করে।
আটকানোর পর কিশোরকে স্থানীয় থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে অপরাধমূলক অভিযোগে দায়ের করা হবে এবং আদালতে উপস্থিত হতে হবে। বর্তমানে কিশোরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এ ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতালের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং মেয়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
ঢামেকের চিকিৎসকরা মেয়ের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেন। রিপোর্টে কোনো শারীরিক আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মানসিক শক স্পষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের মতে, কিশোরের পরিচয় এবং ঠিকানা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নচেষ্টার আইনি ধারা অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তদন্ত চলাকালীন কিশোরের পরিবারকে জানানো হয়েছে যে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের অপরাধ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় গৃহবন্দি ও যুবকদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় নারী অধিকার সংগঠনগুলো মেয়ের পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে আইনি সহায়তা এবং মানসিক পরামর্শের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা একই সঙ্গে শিশুদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে।
অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। পুলিশ ফোরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং সাক্ষীদের বিবৃতি নেয়া হয়েছে। প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে যথাযথ রায় দেওয়া হবে।
মেয়ের স্বজনের মতে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারিক তত্ত্বাবধানের গুরুত্বেও জোর দিয়েছেন।
এই মামলাটি স্থানীয় আদালতে শীঘ্রই শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। আদালত কিশোরের হেফাজত বাড়িয়ে রাখবে কিনা এবং মামলার শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্রমাণের বিশ্লেষণ করবে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশিত হবে।



