ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার শেরপুরে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তার এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে একটি নিম্নবিত্তের ব্যক্তি থেকে কুৎসিত মন্তব্যের মুখোমুখি হন। হ্যাক করা অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বার্তায় নারীকে অসম্মান করা ব্যক্তিরা অন্য কাজেও জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়, যা ডা. শফিকুরের তীব্র নিন্দা উস্কে দেয়।
ডা. শফিকুর রহমান জনসমক্ষে উল্লেখ করেন, “যে কেউ নারীর মর্যাদা অস্বীকার করে, তারাই অন্য প্রোগ্রামেও জড়িত থাকে।” তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যার মধ্যে ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তিনি সরকারি কর্মচারীদের মর্যাদা রক্ষা এবং বেতন বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় উল্লেখ করেন।
নেতা নারীকে অসম্মান করা আচরণকে কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য বলে না বলে স্পষ্টভাবে বলেন। তিনি মায়ের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা উল্লেখ করে, সমাজে নারী ও মায়ের সুরক্ষার গুরুত্বকে জোর দেন। নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি জানান, কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা প্রচারণা বাধা দেওয়া হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
শেরপুরে সম্প্রতি জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় ডা. শফিকুরের উদ্বেগ প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার তিন দিন পার হওয়া সত্ত্বেও কোনো সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়নি, যা আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করে। তাই তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনি প্রক্রিয়ায় আনার দাবি তোলেন।
হ্যাকিং ঘটনার পর জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়, যেখানে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের নিন্দা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দলটি উল্লেখ করে, হ্যাক করা অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত মন্তব্যগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় এবং তা দ্রুত মুছে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সাইবার হুমকির নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণা ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. শফিকুরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দল ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীও নারীর নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে, তবে তারা হ্যাকিংয়ের দায়িত্ব কার উপর তা স্পষ্ট করতে চায়। কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে তা বিরোধী দল বা অপ্রাসঙ্গিক গোষ্ঠীর দ্বারা অপব্যবহার হতে পারে।
শেরপুরের জনসভা শেষে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা ডা. শফিকুরের নারীর অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি ও হ্যাকিং ঘটনার দ্রুত সমাধানের আহ্বানকে স্বাগত জানায়। তারা দাবি করেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সাইবার নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করে, বিশেষ করে নির্বাচনের সময়ে তথ্যের সঠিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ডা. শফিকুর রহমানের দল আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে হ্যাকিংয়ের মূল কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। তদুপরি, রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, শেরপুরে ডা. শফিকুরের মন্তব্য ও হ্যাকিং ঘটনা রাজনৈতিক নিরাপত্তা, নারীর সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



