লাহোরে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে। এই জয়টি সাত বছর পর পাকিস্তানের অস্ট্রেলিয়া বিরুদ্ধের সিরিজ জয় এবং গত দুই দশকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ পার্থক্য রেকর্ড করেছে।
দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে পাকিস্তান ৯০ রানে জয়লাভের মাধ্যমে সিরিজের শিরোপা নিশ্চিত করে, যা দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত তৈরি করে। ম্যাচের প্রধান মুহূর্তগুলোতে পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের ক্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মূল ব্যাটসম্যান ক্যামেরন গ্রিন আউট হন।
ক্যামেরন গ্রিন, যিনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বড় ভরসা এবং ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন, তারিকের ক্যাচে আউট হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। গ্রিনের মুখে দৃশ্যমান বিরক্তি দেখা যায়, বিশেষ করে তিনি বাউন্ডারি পার হয়ে সাইডলাইনে যাওয়ার সময় হাত দিয়ে বেসবল ছোড়ার মতো অঙ্গভঙ্গি করেন, যা অনেক দর্শকের কাছে তারিকের বোলিং অ্যাকশনের প্রতি ‘চাকিং’ ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
ম্যাচের পর উভয় দলের সংবাদ সম্মেলনে উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন এবং গ্রিনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী উসমান খান স্পষ্ট করে বলেন যে বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা নির্ধারণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে আম্পায়ারের উপর। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের হাভিয়ের বার্টলেট এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান।
উসমান তারিকের বোলিং স্টাইল কিছুটা অস্বাভাবিক। তিনি ডেলিভারির আগে সামান্য থেমে সাইডআর্মে বোলিং করেন, যা অফ-স্পিনারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। লাহোরের ম্যাচে তিনি মাত্র ২.৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে দুইটি উইকেট নেন। তারিকের বর্তমান টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক রেকর্ডে তিনি আটটি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যার গড় ইকোনমি ৫.৬২।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের কনুই ডেলিভারির সময় ১৫ ডিগ্রি থেকে বেশি বাঁকানো অনুমোদিত নয়। তবে যদি বোলার জন্মগতভাবে কনুইতে স্বাভাবিক বাঁক থাকে, তবে তা নিয়মের বাইরে ধরা হয়। এই নিয়মের ভিত্তিতে উসমান তারিকের অ্যাকশনকে নিয়মের মধ্যে রাখা হয়েছে।
তবে তারিকের বিরুদ্ধে পূর্বে দু’বার সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের পিএসএলে তিনি দু’বার এই অভিযোগের মুখোমুখি হন। লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে পরিচালিত দু’বারের বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষায় তারিকের অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হয়েছে এবং কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের সনাক্ত করা যায়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ইংলিশ ক্রিকেটার টম ব্যান্টন আইএল টি-টুয়েন্টি ম্যাচে তারিকের বিরুদ্ধে ‘চাকিং’ অভিযোগ তোলেন। এছাড়া গত নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারিকের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরও তার বোলিং স্টাইল নিয়ে সমালোচনা প্রকাশ পায়।
এই সব বিতর্কের মাঝেও পাকিস্তান ক্রিকেট দল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে আইসিসি নিয়মের অধীনে ভবিষ্যতে কোনো পর্যালোচনা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, লাহোরে পাকিস্তানের বিশাল জয় এবং উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নজরে ফিরে এসেছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ও প্রধান ব্যাটসম্যানের প্রতিক্রিয়া এবং আইসিসি নিয়মের প্রয়োগের ভিত্তিতে এই বিষয়টি পরবর্তী ম্যাচে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



