৩১ জানুয়ারি শনিবার রাত সাতটায় কুমিল্লা-২ (হোমনা‑তিতাস) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উদ্যোগে তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান মডেল সরকারি স্কুল ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে এনসিপি’র মূখ্য সংগঠক ও কমিল্লা‑৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
হাসনাতের ভাষণটি সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে প্রশাসনকে কোনো রাজনৈতিক দলের দাস হিসেবে কাজ করা উচিত নয় এবং তাদের কাজ কেবল জনগণের সেবা হওয়া দরকার। তিনি উল্লেখ করেন যে, “আপনারা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের সেবা করতে এসেছেন, দলীয় দাসত্বে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।”
বক্তৃতার একটি অংশে তিনি সেনাবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে ৫ আগস্টের ঘটনার উল্লেখ করেন এবং বলেন, “সেনাবাহিনীর ভাইদের হারানো গৌরব ও সম্মান ১২ তারিখের নির্বাচনে পুনরুদ্ধার হবে।” তিনি ২০০৯ সালে পিলখানায় ঘটিত ঘটনার কথা উল্লেখ করে যুক্তি দেন যে, সেনাবাহিনী রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করে ভোট পরিচালনায় অংশ নেবে।
হাসনাত মিডিয়ার ওপরও তীব্র সমালোচনা করেন, দাবি করেন যে কিছু মিডিয়া নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা আমার মা‑বোনদের জামা‑কাপড় খুলে নিতে চায়, তাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।” এভাবে তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের পর নারীদের অধিকার হ্রাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্কতা জানান।
স্থানীয় সমস্যার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিতাসের কিছু এলাকায় “বালুখেকো” ও “ভন্ড শিক্ষক” সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এলাকার নেতাকর্মীরা আমাকে ফোন করে বলেছে, তারা এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি চাইছে।” এই মন্তব্যগুলো স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে চলমান সমস্যার সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
হাসনাতের বক্তব্যের শেষে তিনি ১২ ডিসেম্বর নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করি, তবে বাংলাদেশ শতবর্ষের জন্য পিছিয়ে যাবে।” তিনি সকল সরকারি কর্মীকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজনৈতিক দিকভ্রষ্টতা থেকে দূরে থেকে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করে।
র্যালির উপস্থিতি মূলত ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিল্লা‑৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে হাসনাতের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ছিল। র্যালিতে উপস্থিত ভোটার ও স্থানীয় নেতারা হাসনাতের বক্তব্যে সম্মতি প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
এই র্যালি এবং হাসনাতের বক্তৃতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সরকারী কর্মচারী, মিডিয়া এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা একসাথে উপস্থাপিত হয়েছে। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় এধরনের র্যালি ও বক্তৃতা রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



