আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) এর প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ৭১ বছর বয়সে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্টারনেটের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের কুলশোয়ারে শনিবার তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘ সময় ক্যান্সার চিকিৎসা চলার পর শেষ পর্যন্ত লিভার ক্যান্সারই তাকে তাড়া করে।
মৃত্যুর পরপরই পারিবারিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলদের জানানো হয় যে, রবিবার বিকাল ৩টায় খারি শরিফে তার শেষ দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দাফন প্রক্রিয়ায় সরকারী ও পার্টি নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
সুলতান মাহমুদ ২০২১ সালের আগস্টে আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। ঐ নির্বাচনে মোট ৫২ ভোটের মধ্যে তিনি ৩৪টি ভোট পেয়ে শীর্ষে উঠেছিলেন। তিনি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত পার্টি পিটিআই-র সমর্থন পেয়ে এই পদে অধিষ্ঠিত হন। নির্বাচনের আগে তিনি পিটিআই-র আঞ্চলিক সভাপতি হিসেবে কাজ করতেন এবং ১৯৮৫ সাল থেকে অনুষ্ঠিত নয়টি সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে সাতবার জয়লাভ করে আজাদ কাশ্মীরের আইনসভায় স্থান পেয়েছেন।
সুলতান মাহমুদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তার দৃঢ় কাশ্মীর নীতি ও আজাদ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য পরিচিত। তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে গণ্য হতেন এবং বহুবার পার্টি ও সরকারী স্তরে কাশ্মীরের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
মৃত্যুর পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক, এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি ব্যক্তিত্ব শোক প্রকাশ করেছেন। গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি উল্লেখ করেন, সুলতান মাহমুদের মৃত্যু আজাদ কাশ্মীর ও সমগ্র পাকিস্তানের জন্য অপরিবর্তনীয় ক্ষতি, তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রবীণ আইনজীবী এবং কাশ্মীর ইস্যুর শক্তিশালী সমর্থক ছিলেন। স্পিকার আয়াজ সাদিকও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক এবং কাশ্মীর বিষয়ের প্রতি নিবেদিত নেতা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডন অনুসারে, সুলতান মাহমুদ ৯ আগস্ট ১৯৫৫ সালে মিরপুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত চিচিয়ান গ্রামে একটি প্রভাবশালী জাট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাশ্মীরি রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা ও আজাদ মুসলিম কনফারেন্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী নূর হোসেনের পুত্র। শিক্ষাজীবনে রাওয়ালপিন্ডির গর্ডন কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে আইন শিখতে গিয়ে লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার পদ অর্জন করেন। এই আইনগত পটভূমি তাকে আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক মঞ্চে বিশেষ স্বীকৃতি এনে দেয়।
সুলতান মাহমুদের মৃত্যুর ফলে আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিসরে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্টের পদে নতুন নির্বাচন বা অস্থায়ী পদস্থাপন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পার্টি বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, পিটিআই-র প্রভাব বজায় রাখতে পার্টি নতুন প্রার্থী উপস্থাপন করতে পারে, অথবা বিদ্যমান রাজনৈতিক গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে অস্থায়ী নেতৃত্ব গঠন হতে পারে।
কাশ্মীর ইস্যুতে তার দীর্ঘমেয়াদী অবদান এবং আজাদ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। তার মৃত্যুর পর কাশ্মীর সংক্রান্ত নীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপে কী পরিবর্তন আসবে, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরে থাকবে।
সুলতান মাহমুদের পরিবার ও সমর্থকরা তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে একটি স্মরণীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। তার রাজনৈতিক কর্মজীবন, আইনগত দক্ষতা এবং কাশ্মীরের প্রতি অটল সমর্থন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মডেল হিসেবে রয়ে যাবে।



