গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝু শহরে ৩২ বছর বয়সী সফটওয়্যার ডেভেলপার গাও গুয়াংহুই ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার পরিবার দাবি করে যে দীর্ঘ সময়ের অতিরিক্ত কাজই মৃত্যুর প্রধান কারণ। ঘটনাটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান আর্থিক সেবা সংস্থা সিভিটিই গ্রুপের কর্মস্থলে ঘটেছে।
গাও ২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে একটি টিমের প্রধান হন এবং তার কাজের সময়সূচি তীব্রভাবে বাড়ে। প্রমোশনের পর থেকে অতিরিক্ত সময় কাজ করা তার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তার স্ত্রী লি প্রায়ই তাকে সময়মতো বাড়ি ফেরার জন্য অনুরোধ করতেন, তবে কাজের চাহিদা তাকে প্রায়ই বাড়িতে না ফেরাতে বাধ্য করত।
মৃত্যুর দিন, গাও সকালে অস্বস্তি অনুভব করলেও কাজ চালিয়ে যান। কয়েক ঘন্টার মধ্যে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে একই দিনে বিকেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর আট ঘণ্টা পর গাওয়ের মোবাইলে অফিস থেকে একটি জরুরি পরিদর্শনের নির্দেশনা নিয়ে বার্তা পৌঁছায়। এই বার্তা কর্মস্থলে ২৪ ঘন্টার অনলাইন উপস্থিতি সংস্কৃতির প্রতি জনমতকে তীব্রভাবে উত্তেজিত করে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাজ-জীবনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু করে।
চীনের শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক কাজের সময় ৪৪ ঘণ্টা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ। গাওয়ের মৃত্যুর পর এই বিধানগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, বিশেষ করে টেকনোলজি এবং আর্থিক সেবা খাতের দীর্ঘ সময় কাজের সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে।
গাও হেনান প্রদেশের একটি গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, শৈশবে জীবিকা নির্বাহের জন্য রাস্তায় ময়লা সংগ্রহের মতো কাজ করতেন। কলেজে পড়াকালীন তিনি পার্ট-টাইম কাজের মাধ্যমে নিজের খরচ মেটাতেন। শিক্ষাকালীন সহপাঠীর সঙ্গে বিবাহিত হলেও দম্পতির কোনো সন্তান নেই।
সিভিটিই গ্রুপ গাওকে নিয়োগকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানি তার পরিবারকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে, তবে মৃত্যুর দায় স্বীকার করেনি। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া কর্মী সুরক্ষা ও দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, গাওয়ের ঘটনা চীনের উচ্চপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাতের শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নীতির ঝুঁকি প্রকাশ করে। অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দাবি সত্ত্বেও কর্মী স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যা কর্মী পরিবর্তন হার ও আইনি খরচ বাড়াতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন কোম্পানিগুলোর কর্মপরিবেশ ও সম্মতি নীতি পর্যবেক্ষণ করতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য গাওয়ের মৃত্যুর পর্যালোচনা একটি সতর্কতা সংকেত হতে পারে। শ্রম আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়ানো, কাজের সময়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মী কল্যাণে বিনিয়োগ বাড়ানো কোম্পানিগুলোর জন্য ঝুঁকি হ্রাসের মূল উপায় হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে, কাজ-জীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই টেকসই ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, গাও গুয়াংহুইয়ের মৃত্যু চীনের কর্মসংস্কৃতির কাঠামোগত সমস্যাকে উন্মোচন করেছে এবং কোম্পানিগুলোকে শ্রম আইন মেনে চলা, কর্মী স্বাস্থ্যের রক্ষা এবং বাজারের বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।



