25 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাংনীতে চাঁদা দাবিতে চিরকুট ও বোমা সদৃশ বস্তু রেখে প্রবাসীকে হুমকি

গাংনীতে চাঁদা দাবিতে চিরকুট ও বোমা সদৃশ বস্তু রেখে প্রবাসীকে হুমকি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কাথুলী ইউনিয়নের সহগোলপুর গ্রামে রবিবার সকালে সিঙ্গাপুরে কাজ করা প্রবাসী মিঠুনের বাসার পাশে চিরকুট ও দুটি বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। চিরকুটে মিঠুনের পরিবারকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বস্তুগুলোকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হাতে নেয়া হয়।

চিরকুটে শালীন ভাষায় “শ্রদ্ধেয় মামা সালাম নিবেন, আশা করি ভালোই আছেন” লিখে, পরবর্তীতে চাঁদা দাবির শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। হুমকির সঙ্গে যুক্ত দুটি অজানা বস্তুকে বোমা সদৃশ বলে চিহ্নিত করা হলেও, সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক উপাদান পাওয়া যায়নি।

বস্তুগুলো মিঠুনের পরিবারই প্রথমে লক্ষ্য করে, এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় গাংনী থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, চিরকুট ও বোমা সদৃশ বস্তুগুলো সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞ সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।

গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস জানান, ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চিরকুটে উল্লেখিত চাঁদা দাবি এবং বোমা সদৃশ বস্তু দুটোই সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে গণ্য হবে।

তদন্তের প্রথম ধাপে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ, চিরকুটের কালি ও কাগজের বিশ্লেষণ, এবং বস্তুগুলোর ফোরেনসিক রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত। পুলিশ সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে গ্রামবাসীর সাক্ষ্য ও মোবাইল রেকর্ড যাচাই করছে।

আইনি দিক থেকে, চাঁদা দাবির সঙ্গে হুমকি এবং বোমা সদৃশ বস্তু রাখার অপরাধ উভয়ই দণ্ডনীয়। সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তে কোনো সরাসরি সন্দেহভাজন চিহ্নিত না হলেও, গাংনী অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অনুরূপ হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনা রেকর্ডে আছে। তাই পুলিশ অতীতের সমজাতীয় মামলাগুলোর সঙ্গে তুলনা করে সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান করছে।

স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্কের স্রোত দেখা দিয়েছে; অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গাংনী থানা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ সম্পন্ন হলে, গাংনী থানা মামলাটি গাংনী জেলায় দাখিল করবে। এরপর আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জের মতে, তদন্ত চলাকালীন কোনো বাধা না দিয়ে তথ্য সরবরাহে সহযোগিতা করা সকলের দায়িত্ব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাঁদা দাবির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের হুমকি রোধ করা যায়।

এই ঘটনার পর গাংনী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সংস্থা একত্রে কাজ করছে। সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments