অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে ‘অমর একুশে বইমেলা‑২০২৬’ পিছিয়ে দেওয়ার পর, একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ একটি প্রতীকী বইমেলা আয়োজন করে। এই মেলা ঢাকার বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় এবং ৩৮টির বেশি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করে। মেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বইমেলার মূল উদ্দেশ্যকে সজীব রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেলা সাড়ে একটায় জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। ১৯৭১ সালের গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেত্রী দীপা দত্ত মেলাটির উদ্বোধন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বইমেলা দেশের সাধারণ মানুষের সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষার পরিচয় বহন করে এবং এই সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ এখনও চলমান।
দীপা দত্তের বক্তব্যে তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর হওয়া বিভিন্ন হামলার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে দেশে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যা দেশের ও সংস্কৃতির ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে। গত বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি প্রকাশনা স্টলে ‘মব’ হামলার ঘটনা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এবং উল্লেখ করেন যে বইমেলায় আক্রমণ মানে বাংলা সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমীর সভাপতি ও সমাজচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি মেলাটির বর্তমান গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বইমেলার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন বছরের কারণে মেলাটি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হলেও, তা স্বীকার করা হয়েছে; তবে আবেগগত আক্ষেপ থেকে এই প্রতীকী মেলাটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বইমেলা চলবে এবং মাসিক ভিত্তিতে অতিরিক্ত বইমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতির সভাপতি সাঈদ বারী স্বাগত বক্তব্য দেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হাসান এবং প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসেনও সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। মেলাটির সভাপতিত্ব করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান, যিনি মেলাটির সফলতা নিশ্চিত করার জন্য সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করেন।
প্রতীকী মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশনা সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্যপ্রকাশ, সূচীপত্র, প্রথমা, কাকলী, অনুপম, জাগৃতি, অ্যার্ডন পাবলিকেশন এবং উদীচী। এই প্রকাশনাগুলো মেলাটির বিভিন্ন ঘরে বই প্রদর্শন ও বিক্রয় করে, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ পাঠকদের জন্য নতুন জ্ঞানভান্ডার গড়ে তুলতে সহায়ক।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ছায়ানট ও প্রথমা প্রকাশনা সংস্থার স্টলে হামলার পর, নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও প্রকাশ পেয়েছে। মেলাটির আয়োজকরা নিরাপত্তা দায়িত্বে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা নির্ভয়ে বই কিনতে ও আলোচনা করতে পারে।
বইমেলা শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, কারণ এখানে প্রকাশিত নতুন পাঠ্যপুস্তক, গবেষণা গ্রন্থ ও শিক্ষামূলক উপকরণ সরাসরি শিক্ষকদের হাতে পৌঁছায়। শিক্ষাবিদ ও ছাত্রছাত্রীরা মেলায় নতুন প্রকাশনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পায় এবং সরাসরি প্রকাশকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারে।
বইমেলা শেষ হওয়ার পরেও, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনাগুলো তাদের স্টল থেকে সংগ্রহ করা মতামত ও চাহিদা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ প্রকাশনা পরিকল্পনা করবে। এ ধরনের মেলা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়তা করে এবং বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি বজায় রাখে।
শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে, আমি লক্ষ্য করেছি যে এই ধরনের প্রতীকী মেলা শুধুমাত্র বই বিক্রয়ই নয়, বরং শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে, নতুন ধারণা ও গবেষণার আদানপ্রদানকে ত্বরান্বিত করে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্ন: আপনারা কি মেলায় অংশ নিয়ে নতুন কোনো শিক্ষামূলক উপকরণ আবিষ্কার করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, যাতে ভবিষ্যৎ মেলাগুলোকে আরও কার্যকর করা যায়।



