বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলাম জানিয়েছে যে পার্টির প্রধান শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। পোস্টটি নারীদের নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং জনসাধারণের জীবনে নারীর অংশগ্রহণকে নৈতিকভাবে ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
প্রকাশিত পোস্টটি দ্রুতই মুছে ফেলা হলেও, স্ক্রিনশটের মাধ্যমে বিষয়টি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টের বিষয়বস্তুতে নারীর নেতৃত্বের অধিকার অস্বীকার করা এবং তাদের অংশগ্রহণকে নিন্দা করা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নারীবাদী গোষ্ঠী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া উসকে দেয়।
দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ মধ্যরাতের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে শফিকুরের পাশাপাশি কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতার সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সাইবার আক্রমণ চালানো হয়েছে। হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট থেকে শফিকুরের নামে মিথ্যা ও অননুমোদিত বার্তা প্রচার করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে আক্রমণকারীরা একটি “উচ্চমাত্রার জটিল ও সমন্বিত পদ্ধতি” ব্যবহার করে স্বল্প সময়ের জন্য অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। তবে দলটির সাইবার টিম বিদ্যমান নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রয়োগ করে দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে এবং অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে প্রভাব পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।
দলীয় কর্মকর্তাদের একটি ব্রিফিংয়ে হ্যাকিং ঘটনার সময়সীমা স্পষ্ট করা হয়। শফিকুরের এক্স অ্যাকাউন্ট ৪:৩৭ অপরাহ্নে হ্যাক হয় এবং ৫:০৯ অপরাহ্নে পুনরুদ্ধার করা হয়। একই দিনে ৫:২২ অপরাহ্নে একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে দল জানায় যে আক্রমণকারীরা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে সক্রিয় সেশনের সময় ডিভাইসে প্রবেশ করে। যদিও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়নি, তবে হ্যাকাররা অন্য কোনো অবস্থান থেকে লগইন করে অ্যাক্সেস পেয়েছে।
অননুমোদিত লগইন সনাক্ত হওয়ার পর দলটি সমস্ত সক্রিয় সেশন বন্ধ করে, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। এই পদক্ষেপগুলোকে নিরাপত্তা লঙ্ঘন রোধে জরুরি বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
জামায়াত আরও দাবি করে যে হ্যাকিংয়ের সময় ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানাটি সরকারী ডোমেইনের অধীনে ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ও ইমেইল ঠিকানা সরকারী ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রয়েছে। এই তথ্যকে দলটি হ্যাকারদের পরিচয় সনাক্তের মূল সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঘটনা ঘটার পর দলীয় জাতীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম একটি জেনারেল ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন। ডায়েরি দাখিলের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং হ্যাকিংয়ের দায়ী ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা হ্যাকিংয়ের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত ছিল এবং দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জোর দেন। তারা সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই ঘটনার ফলে জামায়াতের ডিজিটাল যোগাযোগে বিশ্বাসের ক্ষতি হতে পারে এবং পার্টির ইমেজ পুনরুদ্ধারে অতিরিক্ত প্রচার ও নিরাপত্তা ব্যয় বাড়তে পারে। এছাড়া, হ্যাকিংয়ের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে তা নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
দলটি ভবিষ্যতে অনুরূপ সাইবার হুমকি মোকাবিলার জন্য নিরাপত্তা প্রোটোকল আপডেট, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপগুলোকে পার্টির ডিজিটাল উপস্থিতি রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।



