25 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সরকারের ভেনেজুয়েলা তেল বিনিয়োগ স্বাগত জানান

ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সরকারের ভেনেজুয়েলা তেল বিনিয়োগ স্বাগত জানান

ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে জানিয়েছেন যে চীন সরকারকে ভেনেজুয়েলা তেলের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য স্বাগত জানানো হবে। দক্ষিণ আমেরিকান দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে তার ভাঙা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিদেশি মূলধন আকর্ষণ করতে চায়, বিশেষত তেল শিল্পে।

ভেনেজুয়েলা সরকার এই সপ্তাহে তেল খাতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিতে আইন সংস্কার করেছে। বিশ্বে সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেল সংরক্ষণে ভেনেজুয়েলা, নিকোলাস মাদুরোর শাসনকালের সময় চীন সরকারই প্রধান ক্রেতা ছিল। মাদুরোর জানুয়ারি ৩ তারিখে মার্কিন বাহিনীর দ্বারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তীব্র নিন্দা প্রকাশ পায় এবং ক্যারাকাসের সঙ্গে চীনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, চীন সরকার তেল ক্ষেত্রে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের জন্য বড় লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ানে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, “চীনকে স্বাগত জানাই এবং তেল ব্যবসায় বড় চুক্তি করা সম্ভব”। একই সময়ে তিনি উল্লেখ করেন যে ভেনেজুয়েলা অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ শুক্রবার ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ভারতও ভেনেজুয়েলা তেল ক্রয়ের দিকে এগিয়ে আছে। তিনি বলেন, “ভারত ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলা তেল কিনতে চায়, ইরানের বদলে, এবং আমরা সেই চুক্তির মূল ধারণা ইতিমধ্যে স্থাপন করেছি”। এভাবে চীনকে তেল বাজারে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়ে তিনি ভেনেজুয়েলা তেলের বিক্রয়কে বহুমুখী করার ইঙ্গিত দেন।

মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলা তেল থেকে প্রাপ্ত মুনাফা ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “আমরা তেল বিক্রি করব, কিছু অংশ নেব, এবং ভেনেজুয়েলা সরকারও বড় পরিমাণে তেল বিক্রি করবে; উভয়ই প্রচুর লাভ করবে এবং এটি আমাদের দুজনের জন্যই উপকারী হবে”। তিনি আরও যোগ করেন যে মার্কিন সরকার এখন ভেনেজুয়েলা বিষয়ক সিদ্ধান্তে “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে এবং ভেনেজুয়েলা নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হয়েছে।

কিউবার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির কথাও ট্রাম্প উল্লেখ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে কিউবা তেল পেতে পারে এমন দেশগুলোর ওপর শুল্কের হুমকি দেওয়ার পর কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারে, যা কিউবাকে “আবার স্বাধীন” করে তুলবে। “আমি মনে করি তারা আমাদের কাছে আসবে এবং চুক্তি করতে চায়, ফলে কিউবা আবার মুক্ত হবে” তিনি বলেন, এবং শেষমেশ বললেন, “আমরা কিউবার সঙ্গে একটি চুক্তি করার দিকে কাজ করছি, এবং আমরা সদয়ভাবে এগিয়ে যাব”।

এই ঘোষণাগুলি ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চীন সরকারের বিনিয়োগ স্বাগত জানানো এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি উভয়ই ভেনেজুয়েলা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন সরকার ও ভেনেজুয়েলা সরকারের মুনাফা ভাগাভাগি পরিকল্পনা উভয় দেশের তেল রপ্তানি নীতিতে নতুন গতিবিধি আনতে পারে। কিউবার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধি পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে চীন যদি তেল বিনিয়োগে প্রবেশ করে, তবে ভেনেজুয়েলা তেল বাজারে চীনের প্রভাব বাড়বে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র তেল বিক্রয় ও মুনাফা ভাগাভাগির মাধ্যমে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ, চীন ও ভারতের ভূমিকা, এবং কিউবার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা আন্তর্জাতিক তেল বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলবে।

এইসব উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ভেনেজুয়েলা সরকার, চীন সরকার, মার্কিন সরকার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে আলোচনার পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তেল শিল্পে বিনিয়োগের শর্ত, মুনাফা ভাগাভাগি মডেল এবং ভূ-রাজনৈতিক সমন্বয় কিভাবে গড়ে উঠবে, তা আগামী মাসে স্পষ্ট হবে।

৮৫/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টারবিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments