25 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeব্যবসা৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ জেল প্যাভিলিয়ন জেনারেল ক্যাটাগরিতে শীর্ষে

৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ জেল প্যাভিলিয়ন জেনারেল ক্যাটাগরিতে শীর্ষে

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬-এ সাধারণ প্যাভিলিয়ন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ জেল প্যাভিলিয়ন। মেলায় প্রদর্শিত পণ্য, নকশা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মেলা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন এবং কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. মেছবাহুল আলম সেলিম প্যাভিলিয়নের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও স্বীকৃতি সনদ প্রদান করেন।

কারা কর্তৃপক্ষের মতে, বন্দীদের তৈরি পণ্য দিয়ে সাজানো প্যাভিলিয়নটি মেলায় অন্যতম আকর্ষণীয় স্টল ছিল। দেশব্যাপী ৩৮টি কারাগার থেকে ৪০২ প্রকারের হস্তশিল্প, গৃহস্থালী সামগ্রী ও অন্যান্য পণ্য এখানে প্রদর্শিত ও বিক্রয় করা হয়।

মেলা চলাকালে প্যাভিলিয়ন থেকে মোট বিক্রয় ৭০ লাখ ২৮ হাজার ৭০৩ টাকা রেকর্ড করা হয়, যা পূর্বের যেকোনো বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এই পরিসংখ্যান কারা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে।

বিক্রয় সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে কারাগারভিত্তিক উৎপাদন শিল্পের বাজারমূল্যও ত্বরান্বিত হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বন্দীদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ উন্নত হলে পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য আরও বৃদ্ধি পাবে, ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে।

বাজারে এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের সুযোগও প্রসারিত হতে পারে। বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক উদ্যোগের অংশীদারিত্বে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্যাকেজিং ও লজিস্টিক্সে আধুনিকায়ন সম্ভব হবে।

তবে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কারাগারভিত্তিক উৎপাদনকে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে কঠোর মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

অধিকন্তু, পণ্য বিক্রয়ের আয়ের একটি অংশ পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হলে বন্দীদের পুনঃসংহতি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি করবে।

মেলায় উপস্থিত কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উৎপাদন) এ কে এম মাসুম, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট‑২-এর সিনিয়র জেল সুপারিনটেনডেন্ট আল মামুন এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা প্যাভিলিয়নের সাফল্য উদযাপন করেন।

এই সাফল্য সরকারকে কারাগারভিত্তিক শিল্পকে নীতি স্তরে সমর্থন ও প্রণোদনা প্রদান করার প্রেরণা দেবে। কর সুবিধা, বাজার প্রবেশের সহজতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করলে উৎপাদন পরিমাণ ও রপ্তানি সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ভবিষ্যতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এই ধরনের প্যাভিলিয়নের উপস্থিতি দেশীয় উৎপাদন শিল্পের বৈচিত্র্য ও সামাজিক দায়িত্বের মডেল হিসেবে কাজ করবে। অন্যান্য দেশেরও অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা যায়, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সামাজিক উদ্যোগের পরিচিতি বাড়াবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ জেল প্যাভিলিয়নের শীর্ষস্থান অর্জন কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং কারাগারভিত্তিক উৎপাদনকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের সূচনা। সঠিক নীতি, বিনিয়োগ ও মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ে এই সেক্টরটি দেশের মোট উৎপাদন ও রপ্তানি কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments