ইউরোপের টেক ইকোসিস্টেমে জানুয়ারি মাসে পাঁচটি নতুন স্টার্টআপের মূল্যায়ন এক বিলিয়ন ডলারের উপরে পৌঁছায়, ফলে তারা ইউনিকর্নের তালিকায় যুক্ত হয়। এই কোম্পানিগুলো বেলজিয়াম থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলো তাদের উচ্চ মূল্যায়নে বিনিয়োগ করেছে।
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলো কখনও কখনও ইউরোপের বাইরে নিবন্ধিত হতে পারে, তবে তাদের মূল দল বা কার্যক্রম ইউরোপে ভিত্তিক। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো একক কর্পোরেট কাঠামো না থাকায় এই বিভাজন স্বাভাবিক, তাই টেকক্রাঞ্চ এই বিষয়টি উপেক্ষা করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেলাওয়্যারে নিবন্ধিত হলেও স্টকহোমের স্টার্টআপ দৃশ্যের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য লভেবলকে এই শর্তে গণ্য করা হয়েছে।
মূল্যায়ন এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের সরাসরি সম্পর্ক নেই; লভেবল সম্প্রতি $৩০০ মিলিয়ন বার্ষিক পুনরাবৃত্তি আয় অর্জন করলেও তার ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স এখনও অনিশ্চিত। তবুও ভিসি ফার্মগুলো ইউনিকর্ন মূল্যায়নে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক, যা বর্তমান বাজারে টেক স্টার্টআপের প্রতি উচ্চ চাহিদা নির্দেশ করে।
বেলজিয়াম ভিত্তিক সাইবারসিকিউরিটি স্টার্টআপ আইকিডো সিকিউরিটি জানুয়ারিতে $৬০ মিলিয়ন সিরিজ বি ফান্ডিং সংগ্রহ করে ইউনিকর্নের মর্যাদা অর্জন করে। এই রাউন্ডের মাধ্যমে কোম্পানির মূল্যায়ন এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
ফান্ডিং রাউন্ডটি ডিএসটি গ্লোবাল নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, সঙ্গে পিএসজি ইকুইটি, সিঙ্গুলার, নোশন ক্যাপিটাল এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারী অংশ নেয়। এই বিনিয়োগগুলো আইকিডোকে তার প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নে সহায়তা করবে।
আইকিডো সিকিউরিটি এমন একটি সমাধান প্রদান করে যা সফটওয়্যার লাইফসাইকেলের পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা একীভূত করে। বর্তমানে এই সেবা বিশ্বব্যাপী ১,০০,০০০ টিরও বেশি টিম ব্যবহার করছে, যা তার বাজারে গ্রহণযোগ্যতা নির্দেশ করে।
কোম্পানির বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছর থেকে আয় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রাহক সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এই দ্রুত বৃদ্ধির ফলে আইকিডো সিকিউরিটি ইউরোপীয় সাইবারসিকিউরিটি বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
আইকিডো সিকিউরিটির দল উল্লেখ করেছে যে, প্যালো আল্টো এবং তেল আবিবের বড় বড় কোম্পানিগুলোকে পরাজিত করে ইউরোপও বিশ্বমানের সফটওয়্যার নিরাপত্তা প্রদানকারী হতে পারে। এই বক্তব্যটি ইউরোপীয় টেক শিল্পের আত্মবিশ্বাসকে তুলে ধরে।
ক্লাউড অপটিমাইজেশন ক্ষেত্রে কাজ করা ক্যাস্ট এআইও একই সময়ে ইউনিকর্ন তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কোম্পানিটি ফ্লোরিতে সদর দফতর রয়েছে এবং ক্লাউড রিসোর্সের দক্ষ ব্যবহারের জন্য সমাধান প্রদান করে।
ক্যাস্ট এআইয়ের ইউনিকর্ন মর্যাদা অর্জন জানুয়ারি মাসের বিনিয়োগ প্রবণতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ফান্ডিংয়ের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশিত হয়নি। এই অর্জন ইউরোপের ক্লাউড প্রযুক্তি সেক্টরের বিকাশকে নির্দেশ করে।
ইউরোপীয় স্টার্টআপগুলোর এই বৈচিত্র্য—সাইবারসিকিউরিটি থেকে ক্লাউড অপটিমাইজেশন পর্যন্ত—ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের বিস্তৃত আগ্রহকে প্রতিফলিত করে। বিভিন্ন প্রযুক্তি ক্ষেত্রের উচ্চ মূল্যায়ন বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
সামগ্রিকভাবে, জানুয়ারি ২০২৬-এ ইউরোপের পাঁচটি নতুন ইউনিকর্নের উত্থান ভিসি বিনিয়োগের তীব্রতা এবং টেক স্টার্টআপের দ্রুত স্কেলিং ক্ষমতা দেখায়। যদিও উচ্চ মূল্যায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত করে না, তবে এই প্রবণতা ইউরোপীয় উদ্ভাবনের গতি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করে।
ভবিষ্যতে এই কোম্পানিগুলোর বাজার পারফরম্যান্স এবং গ্রাহক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করবে যে, ইউনিকর্ন মর্যাদা টেকসই বৃদ্ধি এবং আয়জনক ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তরিত হবে কিনা।



