রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের কাছাকাছি, পশ্চিম মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় রোহিত শেট্টির বাসার সামনে অজানা ব্যক্তিদের গুলি চালনা করা হয়। গুলির সংখ্যা চার থেকে পাঁচ রাউন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে প্রাথমিক তথ্য জানায়, তবে সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা বাকি। গুলির শোরগোলের ফলে আশেপাশের বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয়ে ওঠে।
মুম্বাই পুলিশ এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়। গুলির স্থানটি অবিলম্বে সুরক্ষিত করা হয় এবং এলাকার প্রবেশ-প্রস্থান নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ দল ঘটনাস্থলকে কোর্ডন করে সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণে কাজ করে।
সিকিউরিটি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে, বাসার চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ গার্ড স্থাপন করা হয়। বাসার প্রবেশদ্বার ও পার্শ্ববর্তী রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালাতে না পারে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ব্যালিস্টিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। তারা গুলির ক্যালিবার, গুলিবিদ্ধের দিক এবং গুলি চালনার সম্ভাব্য অস্ত্রের ধরন নির্ণয়ে কাজ করে। সংগ্রহ করা গুলি-ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য প্রমাণ ভবিষ্যতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আসপাসের সিসিটিভি ক্যামেরা রেকর্ডিংও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ক্যামেরা ফুটেজ থেকে গুলি চালনার মুহূর্তে উপস্থিত সন্দেহভাজন ব্যক্তির চেহারা ও গতি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এই তথ্যের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও রুট নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
ঘটনায় কোনো আহতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। বাসার কোনো বাসিন্দা বা পার্শ্ববর্তী গৃহস্থালির সম্পত্তিতে তাত্ক্ষণিক কোনো ক্ষতি ধরা পড়েনি। গুলি চালনার সময় রোহিত শেট্টি বাসায় উপস্থিত ছিলেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “কোনো ব্যক্তি ভবনের উপর গুলি চালেছে। জোনাল পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ দল এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সব সম্ভাব্য সূত্র অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত গুলি চালনার জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করা হয়নি এবং কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি দায়িত্ব দাবি করেনি। গুলির পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রেরণা সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে জানান, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনার ফলে তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তির বাসার আশেপাশে এমন ঘটনা ঘটলে, এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।
মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তারা এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রাখবে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত থামাবে। নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং ইউনিট পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন, গুলির ক্যালিবার, গুলি-ধ্বংসাবশেষ এবং সিসিটিভি রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনের পরিচয় নির্ণয় করা হবে। প্রয়োজনীয় হলে, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের দল এই ঘটনার সব দিক বিশদভাবে পরীক্ষা করছে। গুলি চালনার সময়ের পরিবেশ, সম্ভাব্য সাক্ষী এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ একত্রিত করে একটি সমন্বিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে।
অধিক তথ্য পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে জানাবে। বর্তমানে, গুলি চালনার পেছনের কারণ ও দায়ী ব্যক্তির সন্ধানে তদন্তের গতি বাড়িয়ে চলেছে।
এই ঘটনা মুম্বাইয়ের উচ্চপ্রোফাইল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।



