26 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাঙামাটি আসনে নির্বাচনী প্রচার চালু, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রধান উদ্বেগ

রাঙামাটি আসনে নির্বাচনী প্রচার চালু, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রধান উদ্বেগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় সপ্তাহে রাঙামাটি জেলায় বিভিন্ন দল তাদের প্রার্থীকে তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। দেশের বৃহত্তম হ্রদ, সবুজ পাহাড় ও নদীর সৌন্দর্য‑সৌভাগ্যে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি পুনরায় উন্মোচিত হওয়ায়, স্থানীয় মানুষদের প্রধান উদ্বেগ এখন নির্বাচনের পর শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

রাঙামাটি পৌরসভার কাঁঠালতলী এলাকায় একটি দোকান পরিচালনা করা আইয়ুব আলী বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো বিশাল ঝামেলা দেখা যায়নি, তবে পাহাড়ের পরিবেশ যেন স্থবির অবস্থায় আছে। ভোট নিয়ে আলোচনা কমে গেছে, মানুষ তাদের মতামত গোপনে রাখছে। তিনি যোগ করেন, পরিস্থিতি যদি সুষ্ঠু থাকে তবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন, অন্যথায় অন্য কোনো পরিকল্পনা বিবেচনা করবেন।

এই সপ্তাহে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় ২০ জনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, বেশিরভাগ ভোটারই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম বলে মনে করছেন, কারণ এখানে কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের উপস্থিতি নেই। প্রচারমূলক কার্যক্রমে ঢিলেঢালা মনোভাব দেখা যায়, তবু ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা বেশিরভাগেরই আছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন সাতজন প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিএনপি থেকে দীপেন দেওয়ান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে জুঁই চাকমা, জাতীয় পার্টি থেকে অশোক তালুকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, গণ অধিকার পরিষদের মো. আবুল বাশার এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জসিম উদ্দীন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

জামায়াতে ইসলামী ও আঞ্চলিক দল জেএসএস, ইউপিডিএফ কোনো প্রার্থী দাখিল করেনি। জামায়াতে ইসলামী ১১‑দলীয় নীতি অনুসরণ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাঙামাটির ভোটাররা মূলত উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতির বদলে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নিশ্চয়তা চাচ্ছেন।

প্রতিটি দলের প্রার্থীই এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। তবে ভোটারদের মনোযোগ বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে কিভাবে নির্বাচনের পর হিংসা ও সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যাবে, তা নিয়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের সময় যদি কোনো হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটে, তবে তারা ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, যদি পরিস্থিতি অশান্তি বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তবে তারা ভোটের পদ্ধতি বা সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি করতে পারেন।

রাঙামাটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ গঠনের দিক থেকে এই নির্বাচনের ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করছেন। তারা বলেন, যদি প্রার্থীরা নির্বাচনের পর শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তবে তা পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য জেলায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, কোনো ধরনের সংঘাত পুনরায় উন্মোচিত হলে তা পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, রাঙামাটি জেলায় এখনো কোনো বড় সংঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি, তবে ভোটারদের উদ্বেগ মূলত নিরাপত্তা ও শান্তির ওপর কেন্দ্রীভূত। নির্বাচনের ফলাফল কিভাবে এই উদ্বেগগুলোকে সমাধান করবে, তা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্ধারণ করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments