চিরঞ্জীবি প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা ‘বিশ্বম্ভরা’ ছবির নির্মাণে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং মুক্তির তারিখ অনির্দিষ্টকালে স্থগিত করা হয়েছে। ছবিটি মল্লিদি ভাসিষ্টা লিখে পরিচালনা করছেন এবং এটি মিথ্যাবিদ্যা-ফ্যান্টাসি ঘরানার, যা চিরঞ্জীবির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।
চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রভাব উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত সময় ও বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্মাতা দল বিশেষ প্রভাবের মান বাড়াতে প্রযুক্তিগত আপডেট এবং অতিরিক্ত পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ছবির ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ছবির মুক্তি তারিখ এখন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়নি এবং অনির্দিষ্টকালে স্থগিত করা হয়েছে।
চিরঞ্জীবি সম্প্রতি ‘মানা শঙ্কর ভারা প্রসাদ গারু’ ছবিতে বড় সাফল্য অর্জন করেন। এই চলচ্চিত্রটি ১২ জানুয়ারি মুক্তি পায় এবং বক্স অফিসে চমৎকার পারফরম্যান্স দেখায়।
‘মানা শঙ্কর ভারা প্রসাদ গারু’ পরিচালনা করেন অনিল রাভিপুডি, এবং এতে ভেঙ্কটেশ, নয়নথারা, ক্যাথরিন ট্রেসা, জারিনা ওয়াহাব প্রধান ভূমিকায় ছিলেন।
‘বিশ্বম্ভরা’ এর পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছবিটি বলিউডের বৃহৎ বাজেটের প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল। তবে বিশেষ প্রভাবের গুণগত মানের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে এই অতিরিক্ত খরচ সামলাতে প্রযোজকরা অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন।
চলচ্চিত্রের পুনর্নির্মাণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মান বাড়াতে আন্তর্জাতিক স্তরের ভিএফএক্স স্টুডিওর সঙ্গে সহযোগিতা করা হতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় ট্যালেন্টের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা ও সেমিনারও আয়োজন করা হতে পারে।
এই পরিবর্তনের ফলে উৎপাদন সময়সূচি দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়ার ফলে চলচ্চিত্রের বাজারমূল্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও উঁচুতে পৌঁছাতে পারে।
দর্শক ও শিল্পের প্রত্যাশা এখন ‘বিশ্বম্ভরা’ এর নতুন রূপের দিকে কেন্দ্রীভূত, তবে মুক্তির অনিশ্চয়তা এখনও বজায় রয়েছে। অনেক ভক্ত নতুন ভিজ্যুয়াল উপাদান এবং গল্পের গভীরতা নিয়ে উত্তেজিত, তবে মুক্তির অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
চিরঞ্জীবি এবং মল্লিদি ভাসিষ্টা উভয়ই এই সিদ্ধান্তকে চলচ্চিত্রের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, ‘বিশ্বম্ভরা’ এর পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান এবং ভবিষ্যতে কখনো মুক্তি পাবে তা নির্ধারণ করা কঠিন।
চলচ্চিত্রের পুনর্নির্মাণের খবর প্রকাশের পর, বলিউডের অন্যান্য বড় প্রকল্পগুলোর সময়সূচি ও বাজেট পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে, উচ্চ বাজেটের অন্যান্য প্রকল্পগুলোতে বিশেষ প্রভাবের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত, চিরঞ্জীবির ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্পের এই পরিবর্তনটি শিল্পের গুণগত মানের প্রতি বাড়তি মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়।



